কুষ্টিয়াসহ সারা দেশে হাম-রুবেলা জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়াসহ সারা দেশে হাম-রুবেলা জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন 

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২০, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়াসহ সারা দেশে শিশুদের সুরক্ষায় শুরু হচ্ছে ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’। আজ ২০ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে ১১ মে পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। জেলার প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ৯২৬ জন শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় এই টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত সন্দেহে ৫৩৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ক্যাম্পেইন সফল করতে জেলায় ৬টি স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি ১ হাজার ৬৮৪টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন টিকাদানকারী এবং দুজন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই টিকার আওতায় আনা হবে। উপজেলা ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ৪৫ হাজার, দৌলতপুরে ৪৭ হাজার ৬১৩, মিরপুরে ৩৩ হাজার ৮৯৩, ভেড়ামারায় ২৪ হাজার ৬৯১, কুমারখালীতে ৩৮ হাজার ৮৪৩ এবং খোকসায় ১৪ হাজার ৬ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া পৌরসভাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কুষ্টিয়া পৌরসভায় ১৯ হাজার ৪৫০, ভেড়ামারা পৌরসভায় ২ হাজার ৬৮৬ এবং কুমারখালী পৌরসভায় ৪ হাজার ৫৪৪ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। দেশজুড়ে ১০ই মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন নির্ধারিত কেন্দ্রসমূহে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টিকাপ্রদান করা হবে।

ইতোপূর্বে ১২ই থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকবে। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৫ই এপ্রিল থেকে ক্যাম্পেইন শুরু হয়ে ২১শে এপ্রিল পর্যন্ত চলবে কর্মসূচি। এদিকে গতকাল রবিবার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার সিভিল সার্জন অফিসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে “হাম-রুবেলা জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬” শীর্ষক এই বিশেষ কর্মসূচি চলছে বলে জানানো হয় অনুষ্ঠানে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সরকার ফারহানা কবীর, মেডিকেল অফিসার ডা. নূরেন মুবাশশিরা প্রভা, মেডিকেল অফিসার ডা. ফাবলিনা নওশিন, মেডিকেল অফিসার ডা. নন্দিতা দাস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. মাকসুদুল আমিন । সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন জানান, শিশুদের হাম ও রুবেলা রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান, জটিলতা ও মৃত্যু ঝুঁকি হ্রাস, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং টিকাদান কভারেজ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন নির্ধারিত কেন্দ্রসমূহে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হবে (সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত)।

টিকাদান কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে-ও ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন চলমান থাকবে। ঢাকা জেলার এমআর টিকার জন্য মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ৫ লাখ ৭ হাজার জন ও ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে ৪০১ জন (রেজিষ্ট্রেশন চলমান)। ঢাকা জেলার ইতোমধ্যে শুরু হওয়া নবাবগঞ্জ উপজেলার মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪১ হাজার ৭২০ জন। ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য ও কর্মসূচি: এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস বয়স থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত সকল শিশুকে ১ ডোজ এমআর টিকা প্রদান করা হবে।

এমআর ভ্যাকসিন. প্রথম ডোজে হামের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং রুবেলার বিরুদ্ধে প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা তৈরি হয়; দ্বিতীয় ডোজের পর হামের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রায় ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই টিকা নিরাপদ, মানসম্পন্ন, কার্যকর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত। টিকা গ্রহণের দিন শিশুর জ্বর, বমিভাব, অ্যালার্জি, অথবা অসুস্থতা থাকলে টিকা প্রদান করা যাবে না। যে শিশু গত ২৮ দিনের মধ্যে এমআর টিকা গ্রহণ করেছে, তাকে এ ২৮ দিন শেষ হওযার আগে টিকা প্রদান করা হবে না।

অসুস্থ এবং বাদ পড়া শিশুরা পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী টিকাদান কেন্দ্র থেকে ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে টিকা নিতে পারবে বলে জানান সিভিল সার্জন। টিকা প্রদানের লক্ষ্যে জেলার আওতায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচার চালানো হচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আপনার শিশুদের যঃঃঢ়ং://াধীবঢ়র.মড়া.নফ ওয়েবসাইটে জন্মনিবন্ধন (অনলাইন) সনদের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন এবং সময়মতো আপনার শিশুকে নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসুন।

যে সকল শিশু অসুস্থতা, অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে নির্ধারিত দিনে টিকা গ্রহণ করতে পারবে না, তাদের পরবর্তীতে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, মিডিয়াকর্মী এবং সুশীল সমাজের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে সিভিল সার্জন বলেন, যাতে উদ্দীষ্ট ১টি শিশুও টিকার আওতার বাইরে না থাকে।