বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় এমপি প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা গতকাল সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন এর উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্র জমা নেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছেও প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কুষ্টিয়ার ৪টি আসনে মোট ৩৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন অফিসার এম এ জি মোস্তফা ফেরদৌস।
এ উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা রিটার্নিং অফিসে গতকালসকাল ১১টা থেকে শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিতে উপস্থিত হন। প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক এমপি, নতুন মুখসহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা ছিলেন। এব্যাপারে অতিরিক্ত নির্বাচন অফিসার এম এ জি মোস্তফা ফেরদৌস জানিয়েছেন, সকল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, আপিল ও প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। কুষ্টিয়া জেলার চারটি আসনে মোট ৩৩টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে।
এর মধ্যে কুষ্টিয়া-১, ২ ও ৩ নম্বর আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীদের বাইরে কোনো বিদ্রোহী মনোনয়ন জমা পড়েনি, একমাত্র কুষ্টিয়া-৪ আসনেই বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়েছে। কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে মোট ৮টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে। এ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এবং জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীনসহ অন্যরা কাগজ জমা দিলেও দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। ফলে প্রার্থী সমীকরণ এখানে দ্বন্দ্ব কিছুটা দেখা যাচ্ছে।
এদিকে প্রাথমিক তথ্য সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে গতকালসকাল ১১টা থেকে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেন। পর্যায়ক্রমে, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, বিএনপির দলীয় প্রার্থী হয়ে কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। পরে কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ব্যারিষ্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহামেদ বাচ্চু মোল্লা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে আফজাল হোসেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে আমিনুল ইসলাম, কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ আলী, কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে আব্দুল্লা আকন্দ, কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা- কুমারখালী) আসনে মোহাম্মদ আনোয়ার খান। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে মাওলানা আরিফুজ্জামান মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী-কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে বাবুল আকতার মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বাংলাদেশ গনফোরাম মনোনীত কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে উদীয়মান সূর্য প্রতীকের কান্ডারী অ্যাডভেকেট আব্দুল হাকিম মিঞা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বাংলাদেশ গঅধিকার পরিষদ (জিওপি) মনোনীত প্রার্থী কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে অ্যাডভোকেট ড. মোহা. শরিফুল ইসলাম মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বাংলাদেশ সমাজ তান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে নুর উদ্দিন আহমেদ, কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে মীর নাজমুল ইসলাম মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জাতীয় পার্টি (জাপা) মনোনীত কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে জুয়েল মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এছাড়া জানা যায়, কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনছার প্রামানিক ও শেখ সাদীর পক্ষে মনোনয়ন জমা দিয়েছে তার সমর্থনকারীরা।
এসময় সকল প্রার্থীদের সাথে কথা হলে জয়ের ব্যাপারে তারা শতভাগ আশাবাদী। সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তারা বিজয়ী হবেন।
এদিকে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, দল তো মনোনয়ন দিয়েছে একজনকে। দলে অনেক যোগ্য নেতাকর্মী আছে। অনেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলো, তবে তারা ধানের শীষের বাইরে যাবে না। নির্বাচন উৎসব মূখর হবে, সবাই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে। বিভিন্ন দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে এটাই স্বাভাবিক। এটা গনতান্ত্রিক কালচারাল, গনতান্ত্রিক নীতি অনুসারে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে। আমরা সবাইকে সাথে নিয়ে উৎসব মূখর পরিবেশে প্রতিদ্বন্দ্বীতা পূর্ণ, অংশগ্রহণ মূলক ইনশাআল্লাহ নির্বাচন হবে। এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীরা বলেন, সঠিকভাবে সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন হোক এটাই চাওয়া। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে বলেন, দেশের পরিস্থিতির পরে থানা থেকে যে অস্ত্র লুট হয়েছে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে অনেক প্রার্থী জানান।
