পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা প্রার্থী এবং তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দাখিলকৃত মনোনয়ন ফরম যাচাই বাছাই শেষে প্রার্থীতা বাতিল হওয়ার কারণ সহ বৈধ প্রার্থীতা ঘোষনা করেন।

জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক এহেতেশাম রেজা’র ঘোষণা অনুযায়ী কুষ্টিয়ার ৪ টি সংসদীয় আসনে ১৭ জনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। যার ফলে ঐ সময়ে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯ জনে। পরবর্তিতে ৬ ডিসেম্বর থেকে মনোনয়ন আপিল ও ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিষ্পত্তি শেষে কুষ্টিয়ার ৪টি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে আপিলের মাধ্যমে ৮ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা ফিরে পেলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৭ জনে।
এদিকে ১৭ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার ৪টি সংসদীয় আসন থেকে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় ৪টি সংসদীয় আসন থেকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। যার মধ্যে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর, সংসদীয় আসন-৭৫) আসনে ১০ জন, কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর, সংসদীয় আসন-৭৬) আসনে ৮জন, কুষ্টিয়া-৩ (সদর, সংসদীয় আসন-৭৭) আসনে ৫ জন এবং কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা, সংসদীয় আসন-৭৮) আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। জেলা নির্বাচন অফিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র পত্যাহার করেছেন তারা হলেন, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর, সংসদীয় আসন-৭৫) আসন থেকে জাকের পার্টির মোঃ আসাদুজ্জামান উৎফল, কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর সংসদীয় আসন-৭৬) আসন থেকে বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের মোঃ অনোয়ার হোসেন বাবলু, জাকের পার্টির রওশন আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ শরিফুজ্জামান এবং কুষ্টিয়-৩ (সদর, সংসদীয় আসন-৭৭) আসন থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দল-জাসদ’র মোঃ গোলাম মহসিন, জাকের পার্টির মীর আবু আশরাফ শাহিনুর আজাদ।
কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর, সংসদীয় অসন-৭৫) আসন থেকে ১০ জন প্রার্থী আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন।ভোটের ফলাফল অনুযায়ী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা ৪৮ হাজার ৯৬১ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে চলে যান, কেটলী প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহাঃ ফিরোজ আল মামুন ৮ হাজার ৯৯ ভোট পেয়েছেন, হাতুড়ী প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির মোহাঃ মজিবুর রহমান পেয়েছেন ৫৮১ ভোট, সোনালী আঁশ প্রতীক নিয়ে তৃণমুল বিএনপির মোঃ আনিছুর রহমান পেয়েছেন ৬০৭ ভোট, ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ নাজমুল হুদা পেয়েছেন ৫৩ হাজার ১০৫ ভোট, ট্রাক প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ রেজাউল হক চৌধুরী ৮৯ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন, লাঙল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির মোঃ শাহরিয়ার জামিল পেয়েছেন ১ হাজার ১১৩ ভোট, ছড়ি প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মোঃ সাজেদুল ইসলাম পেয়েছেন মাত্র ৮৪ ভোট, ডাব প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোঃ সেলিম রেজা পেয়েছেন ২৭৪ ভোট এবং মশাল প্রতীক নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের শরিফুল কবির স্বপন পেয়েছেন ২ হাজার ৬৫৮ ভোট।
এই আসনে সর্বমোট মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ২৮৭জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ২২৩ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬৪জন। এর মধ্যে আসনটিতে ১৪টি ইউনিয়নের ১২৯টি কেন্দ্রে মোট ভোট পোল হয়েছে ২ লক্ষ ৯ হাজার ১৫৮। এর মধ্যে ৪ হাজার ২০২ টি ভোট বাতিল হয়েছে। নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগের চেয়েও কম ভোট পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাতিলের বিধান রয়েছে। সেই সূত্রে প্রত্যেক প্রার্থীর জামানত রক্ষর্থে প্রয়োজন ছিলো ২৬ হাজার ১৪৪ ভোট। কিন্তু সেই কাঙ্খিত পরিমান ভোট না পাওয়ার ফলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা এবং ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ নাজমুল হুদা ব্যাতিত বাকি ৭ জনের জামানত বাতিল হবে।
কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামার, সংসদীয় অসন-৭৬) আসন থেকে ৮ জন প্রার্থী আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ভোটের ফলাফল অনুযায়ী নোঙ্গর প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী আন্দোলন’র প্রার্থী আরিফুর রহমান ২২২ ভোট পেয়েছেন, মোড়া প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ ইফতেখার মাহমুদ পেয়েছেন ২ হাজার ২০৪ ভোট, লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির মুহাঃ শহীদুল ইসলাম ফারুকী পেয়েছেন ১ হাজার ২০৩ ভোট, ট্রাক প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ কামারুল আরেফিন ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছেন, চেয়ার প্রতীক নিয়ে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ’র প্রার্থী মোঃ বাবুল আক্তার পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯৮ ভোট, ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ রুবেল পারভেজ পেয়েছেন ৭৪২ ভোট, কেটলী প্রতীক নিয়ে সরদার মোঃ মুসতানজিদ পেয়েছেন ২৩৯ ভোট এবং মশাল প্রতীক নিয়ে জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল-জাসদ মনোনীত প্রার্থী হাসানুল হক ইনু দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯২ হাজার ৪৪৫ ভোট পেয়েছেন। এই আসনের দুইটি উপজেলা, দুইটি পৌরসভা এবং ১৯টি ইউনিয়নের ১৬১টি ভোট কেন্দ্রের ১ হাজার ৪৫টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহন করা হয়। মিরপুর-ভেড়ামারা আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫১ হাজার ৯৩৬ জন। এই আসনে মোট ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার ২৩৭ জন ভোটার। যার মধ্যে ২ লাখ ১৪ হাজার ২৫২ টি ভোট বৈধ এবং ৫ হাজার ৯৮৫ টি ভোট অবৈধ বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। এই আসনের প্রত্যেক প্রার্থীর জামানত রক্ষর্থে প্রয়োজন ছিলো ২৭ হাজার ৫২৯ ভোট। কিন্তু সেই কাঙ্খিত পরিমান ভোট না পাওয়ার ফলে জাতীয় সমাজ তান্ত্রিক দল-জাসদ মনোনীত প্রার্থী হাসানুল হক ইনু ব্যাতিত বাকি ৬ জনের জামানত বাতিল হবে।
কুষ্টিয়া-৩ (সদর, সংসদীয় অসন-৭৭) আসন থেকে ৫ জন প্রার্থী আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ভোটের ফলাফল অনুযায়ী টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ’র প্রার্থী কে এম জহুরুল ইসলাম পেয়েছেন ২৭০ ভোট, ফুলের মালা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন’র প্রার্থী মেহেদী হাসান রিজভী পেয়েছেন ৩৩৪ ভোট, ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ পারভেজ আনোয়ার তনু পেয়েছেন ৪২ হাজার ১৮১ ভোট, আম প্রতীক নিয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মোঃ ফরিদ উদ্দিন শেখ পেয়েছেন ৫৬৯ ভোট এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোঃ মাহবুবউল আলম হানিফ ১ লাখ ২৭ হাজার ৮০৩ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছেন। এই আসনে ১৪০টি ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯৪ জন। যার মধ্যে ২ লাখ ৫ হাজার ১৫৫ জন পুরুষ ভোটার এবং ২ লাখ ৯ হাজার ৯৩৬ জন মহিলা ভোটার আছে। এছাড়াও এই উপজেলায় আরো ৩ জন হিজড়া ভোটারও আছে। এই আসনে মোট ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৩৩ জন ভোটার। যার মধ্যে ১ লাখ ৭১ হাজার ১৫৭ টি ভোট বৈধ এবং ৪ হাজার ৩৭৬ টি ভোট অবৈধ বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। এই আসনের প্রত্যেক প্রার্থীর জামানত রক্ষর্থে প্রয়োজন ছিলো ২১ হাজার ৯৪১ ভোট। কিন্তু সেই কাঙ্খিত পরিমান ভোট না পাওয়ার ফলে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ পারভেজ আনোয়ার তনু ব্যাতিত বাকি ৩ জনের জামানত বাতিল হবে।
কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা, সংসদীয় অসন-৭৮) আসন থেকে ৮ জন প্রার্থী আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। ভোটের ফলাফল অনুযায়ী ট্রাক প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রউফ ৯৮ হাজার ৪১ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন, সোনালী আঁশ প্রতীক নিয়ে তৃণমুল বিএনপির প্রার্থী আবু সামছ মোঃ খালেকুজ্জামান পেয়েছেন ২৩৯ ভোট, ফুলের মালা প্রতীক নিয়ে তরিকত ফেডারেশন’র প্রার্থী মোঃ আলতাফ হোসেন পেয়েছেন ১৯৪ ভোট, লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ আয়েন উদ্দিন পেয়েছেন ৫৩৩ ভোট, ডাব প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ কংগ্রেস’র মোঃ রাশেদুল ইসলাম পেয়েছেন ২৪৩ ভোট, আম প্রতীক নিয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মোঃ শহিদুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৬৭ ভোট, টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ’র প্রার্থী মোঃ হারুনার রশিদ পেয়েছেন ১ হাজার ৬৭৮ ভোট এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮০ হাজার ১১১ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫ শ’৯৫ জন । এর মধ্যে পুরুষ রয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭ শ’ ৩৩ মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮ শ’৬০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ রয়েছে ২ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা রয়েছে ১৪৮টি। এর মধ্যে কুমারখালীতে ৯৮ টি খোকসাতে রয়েছে ৫০ টি। এই আসনে মোট ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৫ জন ভোটার। যার মধ্যে ১ লাখ ৮১ হাজার ৪০৬ টি ভোট বৈধ এবং ৩ হাজার ৮৮৯ টি ভোট অবৈধ বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। এই আসনের প্রত্যেক প্রার্থীর জামানত রক্ষর্থে প্রয়োজন ছিলো ২৩ হাজার ১৬১ ভোট। কিন্তু সেই কাঙ্খিত পরিমান ভোট না পাওয়ার ফলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সেলিম আলতাফ জর্জ ব্যাতিত বাকি ৬ জনের জামানত বাতিল হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী ৩১ জন প্রার্থীর মধ্যে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে ৭ জন, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে ৬ জন, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে ৩ জন এবং কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের জন সহ সর্বমোট ২২ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
