কুষ্টিয়ার যুবদল কর্মী সবুজকে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ার যুবদল কর্মী সবুজকে প্রকাশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ডিসেম্বর ১, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথে শহরের আমলাপাড়ায় শহর যুবদল কর্মী সবুজ আলীকে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে শহর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক বাবুল ওরফে বান্টা বাবুলের নেতৃত্বে আওয়ামী-যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেশমা খাতুন কুষ্টিয়া মডেল থানায় বাদী হয়ে বাবুলসহ ২২জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০-১২জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ হত্যা মামলার তিনমাস পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামি সহ অন্য আসামিদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, এ হত্যা মামলার আসামিরা আত্মগোপনে আসেন। তাদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছেন।

গত ১১ নভেম্বর শহরের সিঙ্গার মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। সমাবেশ থেকে সাতদিনের মধ্যে সবুজ হত্যায় জড়িত এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির আল্টিমেটাম দেন তারা। এসময় পুরো শহরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাবুর রহমান শিহাব ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামিদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে দুই ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন তারা। সেই আশ্বাসের ২১দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এ মামলার প্রধান আসামি সহ অন্য আসামিরা গ্রেফতার হয়নি। এদিকে চিহ্নিত আসামিদের গ্রেফতার না করায় বিক্ষুব্ধ হয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অনেকেই নানান প্রশ্ন তুলেছেন।

নিহত সবুজের স্ত্রী রেশমা খাতুন বলেন, সবুজ হত্যার তিনমাস পেরিয়ে গেছে। আসামিরা বিভিন্ন এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সরব রয়েছেন তারা। অথচ পুলিশ বলছে, তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে আসামির লোকজন। অদৃশ্য অজানা কারণে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামিরা। এ অবস্থায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে জানান তিনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খায়রুজ্জামান জানান, আসামি ধরতে পুলিশের কোনো গাফিলতি নেই। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। আসামিদের ফেসবুকের ছবি নিয়েও তদন্ত চলছে। থানায় থানায় আসামিদের ছবি পাঠিয়েও খোঁজা হচ্ছে। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাবুর রহমান শিহাব বলেন, এ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। মামলা তুলে নিতে আসামিদের চাপ প্রয়োগের বিষয়ে অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।