মিরপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি ॥ আসন্ন দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচন উপলক্ষে ভোটের মাঠে ব্যস্ত সময় পার করা প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা হাবিবুল্লাহর সরকারি নাম্বার ক্লোন করে প্রতারণার চেষ্টা চালিয়েছে একটি দুষ্কৃতিকারী চক্র।
জানা গেছে, ২১ মে দেশব্যাপী একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচন। এরই প্রেক্ষিতে মিরপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রার্থী ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। এমন সময় ১৮ মে দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সাংবাদিক সোহাগ আহমেদ তার ব্যক্তিগত ফোনে একটি কল পান। কলটি আসে মিরপুর থানার ওসির সরকারি নাম্বার থেকে।
প্রার্থী চলন্ত গাড়িতে অবস্থান করায় ফোনটি রিসিভ করে বলেন, “কে বলছেন?” — তখন অপর প্রান্ত থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তি বলেন, “আমাকে চিনতে পারছেন না? আমার নাম্বার কি আপনার কাছে সেভ নেই?” এই বলেই কলটি কেটে যায়।
পরবর্তীতে গাড়ি থামিয়ে নাম্বারটি যাচাই করে তিনি নিশ্চিত হন, সেটি থানার ওসির সরকারি নাম্বার।
সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ওসি মোস্তফা হাবিবুল্লাহ-কে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে, ওসি জানান, তিনি কোনো প্রার্থীকে ফোন করেননি। এরপর বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, ওসির নাম্বার ক্লোন করে কে বা কারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই কাজটি করছে।
ওসি আরও জানান, শুধু সোহাগ আহমেদই নয়, কমপক্ষে তিনজন প্রার্থীকে একইভাবে ফোন করেছে প্রতারক চক্রটি। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন এবং একটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।
তিনি বলেন,
“এটি একটি নেক্কারজনক ও ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা। কে বা কারা এর পেছনে রয়েছে তা খুঁজে বের করতে আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছি। যদি আমার নাম্বার থেকে কেউ ফোন পায় এবং সেখানে অনৈতিক বা বিভ্রান্তিকর কিছু বলা হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আমাকে জানান। সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”
মিরপুর থানার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে কোনো প্রার্থী প্রতারণার শিকার না হন।
