বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকায় একটি কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল চিপস তৈরি করা হচ্ছে। আটা-ময়দার সঙ্গে কাপড়ের রং মিশিয়ে তৈরি করা হয় বিভিন্ন ব্যান্ডের নকল চিপস। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নকল চিপস করে মোড়কজাত করে বাজারে বিক্রি করা হয়। চিপসের সাথে লোভনীয় খেলনা ফ্রি হিসেবে দেয়া হয়। প্রলোভনে পড়ে শিশুরাই এ ভেজাল চিপসের প্রধান ভোক্তা। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিশুরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া বাজারের পাশে কবির ও বাদশা নামের দুই ব্যক্তি নকল চিপস তৈরি করে আসছেন।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল চিপস তৈরি করে বিভিন্ন ব্যান্ডের নকল মোড়কে প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করা হয়। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা। তাদের বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন নেই। কারখানাটিতে আটা-ময়দার সঙ্গে রং মিশিয়ে চিপস তৈরি করা হয়। নোংরা পরিবেশে চারদিক থেকে ধুলাবালি এসে পড়ে চিপসের প্যাকেটে। বিভিন্ন ব্যান্ডের হুবহু নকল চিপস ও প্যাকেট তৈরি করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কবির ও বাদশার কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিপস তৈরি করা হয়। এতে কাপড়ের নিম্নমানের রং ব্যবহার করা হয়। নোংরা পরিবেশে নকল চিপস তৈরি করে তারা।
চিপসের সাথে লোভনীয় খেলনা ফ্রি দেয়া হয়৷ শিশুদের আকর্ষণ করতে তারা এই টোপ ফেলে চিপস বাজারজাত করে। এতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে শিশুরা। ভেজাল চিপস খেয়ে রোগে আক্রান্ত হতে পারে তারা। বিষয়টি তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জনস্বার্থে দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এবিষয়ে চিকিৎসকরা জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি ভেজাল চিপস বা যেকোনো খাদ্য খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে হয়, বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ভেজাল খাবার অনিরাপদ ও ঝুকিপূর্ণ। এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এবিষয়ে কথা বলার জন্য ভেজাল কারখানার মালিক কবির ও বাদশার সাথে সরাসরি ও মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
