রঞ্জুউর রহমান ॥ লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের কারনে দিশেহারা মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত এবং নিন্ম আয়ের মানুষ। কুষ্টিয়া বড় বাজার ও পৌর বাজার গিয়ে দেখা যায় এবার নানা অজুহাতে মাসখানেক আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করেছেন ব্যাবসায়ীরা। সরকারের পক্ষ থেকে রমজান উপলক্ষে বাজার নিয়ন্ত্রণে ভোক্তাদের নানা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার চিত্র ভিন্ন। সকল প্রকার প্রচেষ্টা থাকলেও অদৃশ্য কারণে সম্ভব হচ্ছে না বাজার নিয়ন্ত্রণ। ছোলা, বেগুন, লেবু, মাছ-মাংস প্রায় সবই চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের খরচ আরও বাড়তে শুরু করেছে। মূল্যস্ফীতির চাপে এমনিতেই দিশেহারা সীমিত ও নিম্নআয়ের মানুষ। তার ওপর রোজাকে ঘিরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী গতি এ চাপকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রমজান মাসের বাড়তি খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন সাধারণ মানুষ। রোজার আগে থেকেই ছোলা, অ্যাংকর, মুগসহ সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে। খেজুরের দর বরাবরই লাগামহীন। চিনির বাজারেও দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। সয়াবিন তেলের দাম যদিও কিছুটা কমলেও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামও আকাশ ছোঁয়া। দাম বাড়ার তালিকা থেকে বাদ পড়েনি চিড়া-মুড়িও। সবজির মধ্যে ইতোমধ্যেই বেগুন, শসা ও লেবুসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে। এক সপ্তাহের বাজার মূল্য পর্যালোচনা করে দেখা যায় নিত্যপণ্যে খরচ অনেকখানি বেড়েছে। প্রতি কেজি ছোলা এখন ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যা ছিলো ৯০ থেকে ১০০ টাকা। অ্যাংকর ডাল কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রিয় হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেও কেজি প্রতি যার মূল্য ছিলো ৭০ টাকা। গত সপ্তাহে ৯৫ টাকা দরে বিক্রি হওয়া বড় দানার মসুর ডাল এ সপ্তাহ ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজের দর গত সপ্তাহে যেখানে ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে ছিল তা এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজায় মুখরোচক নানা খাবারে প্রধাণ উপকরণ গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো চিনি। চিনির দাম বেড়ে যাওয়ায় এসব খাবারের দামও বেড়েছে আনুপাতিক হারে, অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রায় দেড় গুণ। বাজারে খোলা চিনির কেজি এখন ১৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে যা ১৪০ ছিল। সাধারণ মানের খেজুর গত বছর ছিল ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। এবার তা ২৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের কেজি গত সপ্তাহে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা ছিল। এ সপ্তাহে ৭০০ থেকে ৭২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে খাসির মাংসের প্রতি কেজির দাম ছিলো ১১০০ টাকা তা বেড়ে এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২’শ টাকা দরে। গত সপ্তাহ থেকে এই সপ্তাহে সব প্রকার মুরগির মাংসের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে আলুর কেজি ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা পর্যন্ত। কুষ্টিয়া পৌর বাজারের ক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, মাসের সীমিত বেতনে মাসের বাজার খরচ সামলাতেই ঘাম ছুটে যায়। সেখানে রোজা মধ্যে জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়েছে। রমজানে কীভাবে বাজার খরচ সামাল দেবো এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। বাজারে এখন এক কেজি সাধারণ মানের খেজুরের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। গত বছর রোজায় এ খেজুরের দাম ছিল ১৫০-২০০ টাকা কেজি। এছাড়া ভালো মানের খেজুর ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। যা গত রমজানের থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি। কুষ্টিয়া বড় বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রহমান বলেন, রোজার কোনও পণ্যে সুখবর নেই। এবার রোজার অনেক আগেই থেকে ছোলা ও খেসারির ডালসহ অন্যান্য সব ডালের দাম চড়া। আমাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়েছে। যদিও রোজায় পণ্যের দামের লাগাম টানতে সরকার গত ৮ ফেব্র“য়ারি খেজুর, চিনি, সয়াবিন তেল ও চাল আমদানিতে শুল্কছাড় দিয়েছিল। তবে সয়াবিন তেল ছাড়া অন্য তিন পণ্যে দাম সামান্যও কমেনি বরং বেড়েছে। অন্যদিকে, গত সপ্তাহে অর্থাৎ রোজার আগে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বেড়ে এখন পেঁয়াজের দাম প্রায় দুই গুণ। সেই হিসেবে এক কেজি পেঁয়াজে কিনতে ক্রেতাদের কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি গুণতে হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আদা ২০০, চায়না রসুন ২০০ ও দেশি রসুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত রমজানের তুলনায় প্রায় প্রতি কেজি ১০০ টাকা বেশি। বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে মুরগির দাম। বৃহস্পতিবার ব্রয়লার ২০০, সোনালী ৩০০,দেশি মুরগী ৬০০ টাকা বিক্রি হলেও গত সপ্তাহে প্রতি কেজি মুরগিতে বেড়েছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকা দরে। সেই সঙ্গে খাসির মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়।কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০, শসা ৮০, মুলা ৩০, ঝিঙে ৬০, বেগুন ৪০, পেঁপে ৩০, লাউ প্রতি পিস ৪০, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৪০, টমেটো প্রতি কেজি ৫০, ফুলকপি ৩০, আলু ৩৫, কাঁচা মরিচ ১০০, মটরশুঁটি ৮০, গাজর ৪০ ও শিমের বিচি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে সব ধরনের মাছের দাম বাড়তি যাচ্ছে। পাঙাশ মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০, চাষের শিং মাছ ৪৮০ থেকে ৫০০, রুই ৩২০ থেকে ৩৫০, চাষের কই ৩০০, দেশি ছোট কই ৬০০ থেকে ৭০০, পাবদা মানভেদে ৩০০ থেকে ৩৫০, শোল মাছ একটু বড় সাইজের ৯০০, চিংড়ি ৮০০, কাতলা মাছ ৩২০ থেকে ৩৫০, বোয়াল ৭০০ থেকে ৮০০ ও টেংরা মাছ ছোট সাইজের ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
