কুষ্টিয়ার ডিসি’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ার ডিসি’র বিরুদ্ধে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে বৈধ নেতৃত্বকে উপেক্ষা, বৈষম্যমূলক আচরণ, পক্ষপাতিত্ব ও অসৌজন্যমূলক ব্যবহারের লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুষ্টিয়া জেলা শাখা। একই সাথে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আহবান জানানো হয়েছে আবেদনে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে নিশ্চিত করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র অন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার মুখপাত্র ফাবিহা ইবনাথ।

অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র অন্দোলন কুষ্টিয়া জেলা শাখার মুখপাত্র ফাবিহা ইবনাথ লিখেছেন, আমি বিনীত ভাবে জানাতে চাই যে, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দেলন, কুষ্টিয়া জেলার নবগঠিত কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত ও গঠিত হয়। উক্ত কমিটিই বর্তমানে সংগঠনের বৈধ ও কার্যকর জেলা কমিটি এবং এতে দায়িত্বশীল ও প্রতিনিধির কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, নবগঠিত বৈধ কমিটি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও পূর্বের বিলুপ্ত কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও অনুমোদনে আয়োজন করা হয়েছে।

উক্ত সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক দায়িত্বশীলদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও, নবগঠিত ও বর্তমানে বৈধ জেলা কমিটির কোনো দায়িত্বশীল বা প্রতিনিধিকে কোনো প্রকার ইনভাইটেশন প্রদান করা হয়নি। এই বিষয়টি নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে সরাসরি প্রশ্ন করলে তিনি আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও খারাপ আচরণ করেন এবং স্পষ্ট পক্ষপাতমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তার বক্তব্য ছিল-“এখন থেকে আপনাদের একজন প্রতিনিধি থাকবে, সাবেক যারা আছে সবাই থাকবে।” আমরা তখন ন্যায্যতা ও ভারসাম্যের স্বার্থে প্রস্তাব করি যে, আমাদের একজন প্রতিনিধি থাকলে সাবেকদেরও একজন প্রতিনিধি থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তবে দেখা বচ্ছে যে, সাবেক কমিটির চার-পাঁচজন সদস্য নিয়মিতভাবে সভায় অংশগ্রহণ করছে, অথচ আমাদের বৈধ কমিটির কোনো প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।

বিষয়টি বারবার স্পষ্টভাবে অবগত করার পরও জেলা প্রশাসক মহোদয় তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি এবং আমাদের সঙ্গে যথাযথভাবে কথা বলতেও অনীহা প্রকাশ করেন। লিখিত ঐ অভিযোগে মুখপাত্র ফাবিহা ইবনাথ আরও উল্লেখ করেন, “উপরোক্ত ঘটনাবলি থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জেলা প্রশাসক মহোদয় কর্তৃক-একটি বৈধ ছাত্র সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্বকে ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা লজ্জিত হচ্ছে এবং বৈষম্যমূলক আচরণ ও স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, প্রশাসনিক শিষ্টাচার ও সুশাসনের পরিপন্থী।”

সেই সাথে উপরোক্ত বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র অন্দোলন কুষ্টিয়া জেলার নবগঠিত বৈধ কমিটির দায়িত্বশীলদের সকল সরকারি সভা ও বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, তারা নিজেরাই আইন-শৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। আমি তাদের সে সুযোগ করে দিয়েছি। এরপরও তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেছেন এটি আমার কাছে বোধগম্য নয়।