কুষ্টিয়ার জেলা আওয়ামীলীগ নেতার সনদ জালিয়াতির কাহিনী - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ার জেলা আওয়ামীলীগ নেতার সনদ জালিয়াতির কাহিনী

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৪

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম (বিপ্লব) এর বিরুদ্ধে স্নাতক ও মাস্টার্স এর জাল সনদ দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এমফিল ডিগ্রি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জাল সনদে এমফিল শেষ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই একই বিভাগে পিএইচডিতে অধ্যয়রনত আছেন।

রাশেদুল ইসলাম (বিপ্লব) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ডাংমড়কা গ্রামের মৃত নাহারুল ইসলামের ছেলে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব দৌলতপুরের ডাংমড়কা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিকের গন্ডি শেষ করে কুষ্টিয়া কলকাকলী স্কুলে ভর্তি হয়ে পরবর্তীতে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন।

এর পর ১৯৯০ সালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করে দেখা যায় উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে আওয়ামীলীগের এই নেতা উচ্চ শিক্ষার জন্য ঢাকা কলেজ, ঢাকা ‘ল’ কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করেননি। আওয়ামীলীগের এই নেতার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে অধ্যয়নরত প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকায় ঢাকা কলেজ, ঢাকা ল কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম থাকলেও অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষন করে দেখা যায় আওয়ামীলীগের এই নেতা উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পড়াশোনা শেষ করেননি।

সেই কারনে এসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে কোন শিক্ষা সনদ তার কাছে নেই। আওয়ামীলীগের এই নেতা উচ্চ মাধ্যমিক পাস হলেও দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমানে হাইকোর্ট ও ইজিসি কতৃক অবৈধ ঘোষিত) নামে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৮ সালে এলএলবি ও ২০১০ সালে এলএলএম এর ভূয়া সার্টিফিকেট ক্রয় করেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

যার এলএলবি সার্টিফিকেটের নং-০১৩০৫০, সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩.৪১ এবং এলএলএম সার্টিফিকেটের নং- ০১৫০২৩, সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩.৭৮ সিজিপিএ অর্জন করেছেন। তার সার্টিফিকেট বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী অফিসে জমা দিয়েছেন। এই জাল সনদপত্র দিয়ে আওয়ামীলীগের এই নেতা কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিভাগের আওয়াধীন একই বিভাগের প্রফেসর ড. সেলিম তোহার তত্বাবধানে ‘সীমান্ত এলাকার মানবাধিকার’ বিষয়ে এম.ফিল সম্পন্ন করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।

অনার্স ও মাস্টার্সে জাল সার্টিফিকেটে এমফিল করার বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. সেলিম তোহা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির সার্টিফিকেট জাল বা ভূয়া কি না তা নির্নয়ের দায়িত্ব আমার নয়। এবিষয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সাথে জড়িতদের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব জাল সনদ দিয়ে এম ফিল করার বিষয়ে কথা হয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক একে আজাদের সাথে। তিনি জানান, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের আওতাভুক্ত বিষয় নয় বা ভর্তি করানোর সুযোগ নেই। আইন বিভাগ থেকে এমফিল সম্পন্ন করলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবিষয়ে ভালো বলতে পারবে। কারন যে বিভাগে ভর্তি হয়, ভর্তির কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিভাগের।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের রেজিস্টার আলী হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিষয়টি আমার জানা নেই। এবিষয়ে তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে কথা বলতে বলেন।

জাল সনদে আওয়ামীলীগ নেতার এমফিল সম্পন্ন ও পিএইচডিতে অধ্যয়নরত থাকার বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের  ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুস সালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এমফিল সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে জালিয়াতির কোন ঘটনা ঘটে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবের দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের  অনার্স(এলএলবি) ও মাস্টার্স (এলএলএম) এর সার্টিফিকেট সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত সরবারহ করা হলে  বিশ্ববিদ্যালয়  মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে উক্ত এলএলবি ও এলএলএম সার্টিফিকেট দুটি ভুয়া বা জাল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযোগের বিষয়ে তার কোন বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।