বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক আফরোজা আক্তার ডিউয়ের বিরুদ্ধে স্নাতক ও মাস্টার্স এর জাল সনদ দিয়ে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে সহকারী প্রধানশিক্ষক পদে চাকুরীরত আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাল সনদে চাকুরীর বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে গোপন থাকলেও কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের দুই শিক্ষকের দেওয়া তথ্য বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আফরোজা আক্তার ডিউ কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার মৃত সোহরাব হোসেনের মেয়ে ও কুটিয়া জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবের স্ত্রী।
এদিকে এই বিষয়ে গতকাল বুধবার (১৪ আগস্ট) জেলা প্রশাসক বরাবর জাল সনদ সনাক্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন মোঃ আব্দুস সবুর এক যুবক। সে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পূর্ব ফিলিপনগর গ্রামের মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে। জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত ঐ আবেদন সুত্রে জানা যায়, আফরোজা আক্তার ডিউ দীর্ঘ দিন যাবত দারুল ইহসান বিশ^বিদ্যালয়ের জাল সার্টিফিকেট দিয়ে শিক্ষকতা করে আসছেন।
সে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার কারণে এতদিন কেউ তার বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে বা অভিযোগ করতে পারেন নাই। সেই কারণে তার বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। এছাড়াও সে নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত না থেকে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্কুলে নিয়মিত হাজিরা প্রদান করে অবৈধ পন্থায় নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করে নিয়ম বর্হিভূত অনিয়ম করেছেন।
যা তার বিগত দিনের ফেসবুক পোষ্ট থেকে বোঝা যায়। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত সংবাদ দৈনিক দিনের খবর, দৈনিক কুষ্টিয়ার খবর ও দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আফরোজা আক্তার ডিউ কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার মৃত সোহরাব হোসেনের মেয়ে ও কুটিয়া জেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বিপ্লবের স্ত্রী। অনুসন্ধান বলছে, আফরোজা আক্তার কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ওই একই কলেজে ইংরেজী বিভাগে অনার্স ভর্তি হন। অনার্স এ তৃতীয় বিভাগ নিয়ে পাস করেন। আবেদনকারী ঐ যুবক আফরোজা আক্তার ডিউ’র সার্টিফিকেট পরীক্ষাসহ অত্র বিদ্যালয়ে অবৈধ পন্থায় চাকুরীকালীন সময়ে বেতন ভাতা বাবদ প্রদত্ত অর্থ সরকারের কোষাগারে ফিরিয়ে নিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানান।
এদিকে অনুসন্ধান বলছে, আফরোজা আক্তার কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর ওই একই কলেজে ইংরেজী বিভাগে অনার্স ভর্তি হন। অনার্স এ তৃতীয় বিভাগ নিয়ে পাস করেন। ২০১২ সালের ১৮ই অক্টোবর তৎকালীন সময়ের কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক বনমালী ভৌমিক কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত করেন। তৎকালীন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
তৎকালীন সচিব এনআই খান একাডেমিক ভবন উদ্বোধন করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালেক্টরেট স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, আফরোজা আক্তার ডিউ বিনা কারণে সহকর্মীদের সাথে গালমন্দ করে। শিক্ষকরা তার কোন কথার জবাব দিলেই তিনি তাদের জামাত শিবিরের আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করতো। এছাড়াও আফরোজা আক্তার ডিউ এর বিরুদ্ধে নিয়মিত সকুলে না আসা, ক্ষমতার অপব্যবহার, ক্লাস না নেওয়া, স্কুলের মার্কেট নিজের এবং স্বামীর নামে করে নেওয়া, স্কুল উপস্থিত না হয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া, স্কুলে আগত অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণ করা, ইসলামী পোশাকে কোন ছাত্র-ছাত্রী স্কুলে আসলে তাদের জঙ্গি ট্যাগ দেওয়া এবং ক্লাস না নিয়েও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে থানা পর্যায়ে সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হওয়া সহ তার মেয়েদের রেজাল্ট জালিয়াতি করার মত গুরুতর অভিযোগের কথা জানান ঐ শিক্ষক।
তিনি আরোও জানান, আফরোজা আক্তার ডিউ এর বড় মেয়ে এসএসসি পর্যন্ত স্কুলে প্রথম হলেও বোর্ড পরীক্ষায় তার রেজাল্ট স্কুলের প্রথম থেকে ১০ জনের মধ্যেও ছিলো না। অনুসন্ধান বলছে, কুষ্টিয়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসকের সাথে রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব ও ডিউ দম্পত্তির দহরম মহরম সম্পর্ক তৈরী হয়। ডিসি বাংলাতো রাত-দিনের যে কোন সময় প্রবেশের সুযোগ ছিলো আফরোজা আক্তার ডিউ। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নেন আফরোজা আক্তার ডিউ।
নিয়োগকালে তার একাডেমিক কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করা হয়নি বলেও নিশ্চিত করেন ওই অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। যেহেতু অনার্স এ তার তৃতীয় বিভাগ ছিলো একারনে বেসরকারী দারুল এহসান নামে (বর্তমানে ইউজিসি কতৃক কালো তালিকাভুক্ত ও হাইকোর্ট থেকে অবৈধ ঘোষিত) একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্যে অনার্স ও মাষ্টার্স ডিগ্রী সংগ্রহ করেন ডিউ। ওই সার্টিফিকেট দিয়ে সহকারী প্রধানশিক্ষক হিসেবে অদ্যবদী চাকুরীরত আছেন। দারুল এহসান থেকে সংগ্রহ করা তার অনার্স সার্টিফিকেটের সিরিয়াল নম্বার – ০৪৬৩৭ এবং মাষ্টার্সের সার্টিফিকেট নম্বর-০০৩৯৮১। উক্ত সিরিয়াল নম্বর দিয়ে ইউজিসি কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সার্টিফিকেট দুটি ভূয়া বা জাল।
