বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার ৪টি সংসদীয় অসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন। যাচাই-বাছই শেষে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কারণে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছিলো ২৭ জনে। পরবর্তিতে ৩ জন প্রার্থী অপিলের মাধ্যমে তাদের মনোনয়ন পত্রের বৈধতা ফিরে পাওয়ায় বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩০ জনে। গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়ের মধ্যে পাঁচজন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার কারায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫ জনে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে ৭ জন, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামার) আসনে ৫ জন, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে ৬ জন এবং কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন-৭৫, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের ১৪টি ইউনিয়নের ১৩৫টি ভোট কেন্দ্রের ৭৯৮ টি ভোট কক্ষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত করেছে কুষ্টিয়া জেলা নির্বাচন অফিস। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে সর্বমোট ৪ লাখ ১৫৯ জন ভোটার রয়েছে। যার মধ্যে ২ লাখ ৯ শত ৯৩ জন পুরুষ, ১ লাখ ৯৯ হাজার ১ শত ৬৫ জন এবং ১ জন হিজরা ভোট রয়েছে। কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন এর মধ্যে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা (স্বতন্ত্র প্রার্থী) ও জেএসডির গিয়াস উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল হয় মনোনয়ন পত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। যার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে বৈধতা পান বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা (স্বতন্ত্র প্রার্থী)।
তবে এই আসনে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার সিদ্ধন্তে অনড় থাকার কারণে বিপাকে পড়তে পারেন ধানের শীষের প্রার্থী রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লা। কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে ৭ জন প্রার্থী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বেলাল উদ্দীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লা, জাতীয় পার্টির মো. শাহরিয়ার জামিল, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহা. বদিরুজ্জামান, গণঅধিকার পরিষদের মো. শাহাবুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা। সংসদীয় আসন-৭৬, কুষ্টিয়া-২ আসনটি মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা নিয়ে গঠিত।
এই আসনের ১৭০টি ভোট কেন্দ্রের ৯৩৩ টি ভোট কক্ষে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ৩১৩ জন। যার মধ্যে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৫৭ জন পুরুষ, ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫৩ জন মহিলা এবং ৩ জন হিজড়া ভোটার। এই আসনের মিরপুর উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের মোট ১১৪টি ভোট কেন্দ্রের ৫৭৪টি ভোট কক্ষে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৮ হাজার ১৫৭ জন। যার মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩১৯ জন পুরুষ, ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩৭ জন মহিলা এবং ১ জন হিজরা ভোটার। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন। যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল আহসানুল হক’র মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
এছাড়াও এই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস’র মো. আরিফুজাম্মান ও খেলাফত মজলিস’র মো. আব্দুল হামিদ তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে ৫ জন প্রার্থী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আব্দুল গফুর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাগীব রউফ চৌধুরী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নূর উদ্দিন আহমেদ, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. বাবুল আক্তার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আলী। সংসদীয় আসন-৭৭, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে সর্বমোট ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৩ জন ভোটার রয়েছে।
যার মধ্যে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯ শত ৪৬ জন পুরুষ, ২ লাখ ১১ হাজার ১ শত ৩৩ জন এবং ৪ জন হিজরা ভোট রয়েছে। তথ্য মতে, পৌরসভার ৪৯টি ভোট কেন্দ্রের ৩১৫টি ভোট কক্ষে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ১ শত ৭৫ জন। যার মধ্যে ৭৭ হাজার ৭ শত ১২ জন পুরুষ, ৮৪ হাজার ৪ শত ৬২ জন মহিলা ভোটার এবং হিজরা ভোটার ১ জন। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন। এই আসনে সকল প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। যার মধ্যে খেলাফত মজলিস’র মোঃ সিরাজুল হক তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন। কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে ৬ জন প্রার্থী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন।
প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মো. জাকির হোসেন সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আমির হামজা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আব্দুল্লাহ আকন্দ, গণঅধিকার পরিষদের মোহা. শরিফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর মীর নাজমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মোছা. রুম্পা খাতুন। সংসদীয় আসন-৭৮, কুষ্টিয়া-২ আসনটি কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনের দুইটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়নের ১৫২টি ভোট কেন্দ্রের ৮৪১ টি ভোট কক্ষে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৬৫ জন। যার মধ্যে ২ লাখ ১০ হাজার ৩৩৭ জন পুরুষ, ২ লাখ ৮ হাজার ৭২৩ জন মহিলা এবং ৫ জন হিজড়া ভোটার। কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন। এই আসনে আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কুমারখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির খাইরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করে নির্বাচন কমিশন।
যার মধ্যে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির খাইরুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনে আপিল করে মনোনয়ন পত্রের বৈধতা ফিরে পান এবং নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক প্রার্থীতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন নাই। অপরদিকে, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)’র মো. আবু বক্কর সিদ্দিক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. শেখ সাদী তাদের মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন। কুষ্টিয়া-৪ আসনে ৭ জন প্রার্থী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন। প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. শহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আনোয়ার খান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. খায়রুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আফজাল হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সৈয়দ মেহেদী আহমেদ, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)-এর তরুণ কুমার ঘোষ, গণফোরামের মো. আব্দুল হাকিম মিঞা। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, আগামীকাল বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
