বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলার কৃষি ও জীব বৈচিত্রসহ লবণাক্তের আগ্রাসন থেকে গ্রেট ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনকে রক্ষায় জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় গড়াই খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রায় তিন দশক পূর্বে কয়েক হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয়ে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নসহ গড়াই নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধারে প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। তবে কোনোভাবেই শুষ্ক মৌসুমে টেকসই নাব্যতা প্রবাহে প্রাণ পাচ্ছে না গড়াই। অভিযোগ উঠেছে বিগত দিনের ত্রুটি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করে দক্ষতা, সঠিক পরিকল্পনায় নিজস্ব সক্ষমতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে খনন কাজ শুরু করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
তবুও শুষ্ক মৌসুমে গড়াইয়ের বুকে জেগে উঠে ধুধু বালুচর। এর অন্যতম কারণ দেখিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ ড্রেজিংকৃত সিলকোট নিরাপদ স্থানে না রেখে নদীর মধ্যেই ফেলানোর জন্য ওই সিলকোট আবার পূন:রায় তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে সরকারের এই বিপুল অর্থব্যয়ে ড্রেজিং প্রকল্প হতে কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, যে টার্গেট নিয়ে গড়াই খনন শুরু হয়েছিল তা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন টেকসই নাব্যতা সৃষ্টি করতে প্রতি বছরই বন্যার সময় জমে যাওয়া সিলকোট নদীর তলদেশ থেকে অপসারণ করা না গেলে গড়াই নদী প্রান সংকটে পড়বে।
সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম মুশতাক হোসেনের অভিযোগ, গত মে মাসে হরিপুর কুষ্টিয়া সংযোগ সেতু সংলগ্ন ভাটিতে এবং রেনউইক বাঁধ এবং কমলাপুর বাঁধের মধ্যবর্তী অরক্ষিত স্থানে ড্রেজিংকৃত সিলকোট নদীর মধ্যেই ফেলেছিল। প্রায় মাস খানেক সময় ধরে ওইখানে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ঘন মিটার সিলকোট ডাম্পিং করেছিল যা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে আবার সেগুলি যেখান থেকে তোলা হয়েছিল সেখানেই চলে যায়।
প্রায় ৩ কোটি টাকা সরকারী অর্থ ব্যয়ে এই নিষ্ফলা খননের দায় কার? অবিলম্বে এসব অনিয়ম দূর করে সঠিক ও পরিকল্পিত পদ্ধতিতে ড্রেজিং করার দাবি জানান তিনি। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষন প্রকল্প ৩য় ধাপের খননের জন্য নির্ধারিত গড়াই অপটেক (জিরো) থেকে শুরু করে ১৬ কিলোমিটার দৈর্ঘের দূরত্ব পর্যন্ত। এই আয়তনের মধ্য থেকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ফেব্রুয়ারী থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সিলকোট অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৮ লক্ষ ঘন মিটার।
গড়াই পূন:রুদ্ধার প্রকল্পের নিজস্ব ড্রেজারে খননকার্য চালিয়ে প্রতি ঘন মিটার সিলকোট অপসারণে সরকারের ব্যয় হয় ৮২ টাকা। হিসেব মতে সরকারের প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন কাজ করা হয়। এছাড়া এই প্রকল্পের তহবিল থেকে ১২ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে গড়াই নদীর বাম তীরে হরিপুর কুষ্টিয়া সংযোগ সেতু সংলগ্ন ৩শ ৭০মিটার দৈর্ঘের তীর সংরক্ষন কাজ নির্মানাধীন রয়েছে। ড্রেজিং ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈকত বিশ্বাস জানান, প্রতি বছরই সময় মতো অর্থ বরাদ্দে বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সময় স্বল্পতার মুখে পড়তে হয়। এছাড়া সিলকোট ষ্টোরেজের নিরাপদ স্থান সংকটের কারণেও খনন কাজ ব্যহত হয়।
