কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা জুড়ে মাদকের জমজমাট ব্যবসা – পর্ব ১ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা জুড়ে মাদকের জমজমাট ব্যবসা – পর্ব ১

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ১৪, ২০২৪

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে প্রশাসনের চোখের অন্তরালে সুকৌশলের সাথে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে মাদক ব্যবসায়ীরা। প্রশাসন কর্তৃক মাদক বিরোধী অভিযানে ছোট খাটো ব্যবসায়ী এবং মাদক সেবনকারী ধরা পরলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীরা।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা জুড়ে মাদকের জমজমাট ব্যবসা – পর্ব ১

অনুসন্ধানে জানা যায়, কুমারখালী থানা থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ দূরে রেল স্টেশনের পূর্ব পাশে রিপন ফুল ঘরের আশে পাশে অবস্থান করে মোঃ রমজান পিতা- জালাল দীর্ঘ দিন যাবত সুকৌশলে হেরোইন এবং নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টা ট্যাবলেটের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। প্রশাসনের কাছে আটক হলেও সল্প সময়ে কোর্ট থেকে জামিনে বের হয়ে পুনরায় বহাল তবিয়তে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন। উক্ত মাদক ব্যবসায়ী রমজানের নিজ মুখে মাদক ব্যবসা পরিচালনার স্বীকারক্তি প্রতিবেদকের কাছে ভিডিও চিত্রে সংগ্রহীত রয়েছে। একই এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী বিলকিছ পিতা- বিল্লাল শেখ দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। পুরুষ মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে পাল্লা দিয়ে সেরকান্দি এলাকায় নিজ বাসা বাড়িতে ট্যাপেন্টার জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে উক্ত মাদক ব্যবসায়ী বিলকিছ। আবার বিলকিছের বাসার পাশেই আমো নামের এক ব্যক্তিকে দেখা যায় বিভিন্ন সময় ট্যাপেন্টা নামক এই মাদক বিক্রি করতে। অন্যদিকে রেল স্টেশনের পূর্ব পাশ ঘেষে উক্ত এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মাদক সম্রাট শাহীন ও তার স্ত্রী মাদক সম্রাজ্ঞী হালিমা দীর্ঘ দিন যাবত হেরোইন, ইয়াবা এবং ট্যাপেন্টার ব্যবসা পরিচালনা করে চলেছে । কিছু দিন পূর্বে প্রশাসনের কাছে মাদক সহ আটক হলেও কোর্ট থেকে জামিন প্রাপ্তি হয়ে পুনরায় নিজেদের মাদক সাম্রাজ্য পরিচালনায় ব্যস্ত রয়েছেন। প্রশাসনের মাদক বিরোধী অভিজান যেনো উক্ত মাদক ব্যবসায়ী দম্পত্তির কাছে অতি সামান্য হয়ে পরেছে। একই স্থানে মোঃ তুষার পিতা- কিরণ দীর্ঘদিন যাবত ট্যাপেন্টার রমরমা ব্যবসা করে আসছে কুমারখালী রেল স্টেশন এবং বড় জামে মসজিদ গলির পাশে অবস্থিত একটি ধান ও গমের মিলের আশে পাশে গড়ে তুলেছে মাদক বিক্রির স্পট। ইতিপূর্বে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে আটক হলেও বের হয়ে এসে পুনরায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে পুরাতন এই মাদক ব্যবসায়ী তুষার । কুমারখালী উপজেলা পরিষদ থেকে আনুমানিক ১২০ গজ দূরে দুর্গাপুর এলাকায় সুকৌশলে বাইক যোগে ইয়াবার রমরমা ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে মোঃ রাজু পিতা- জামলা মোল্লার বিরুদ্ধে। জানা যায়, ইয়াবা সেবনকারীদের কাছে বাইক যোগে ইয়াবা পৌছে দেওয়া এবং বিধান পিতা- হজ্বে মোল্লা এর মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন স্থানে পৌছে দেওয়ার মাধ্যমে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। উক্ত বিধান মুঠো ফোনের মাধ্যমে ইয়াবার দাম দর করে কখনো সাক্ষাতে আবার কখনো প্রচলিত মোবাইল ব্যাংক নগদের মাধ্যমে মাদকের টাকা নিয়ে থাকে এবং অতঃপর মাদক পৌছে দেয়। যার প্রমান সরুপ বিধানের একাধিক কল রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করে প্রকাশ্য দিবালোকে এসকল মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা করে চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে কুমারখালী উপজেলা একদিন মাদকের স্বর্গ রাজ্য বলে পরিচিতি লাভ করবে বলে মনে করেন সচেতন ব্যক্তিবর্গ। প্রতিবেদনে উল্লেখিত সকলেই প্রশাসনের নিকট চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, তবুও যেনো ধরাছোয়ার বাইরে থেকে কুমারখালীকে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিনত করতে ব্যাপক হারে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে তারা। তাহলে এভাবেই কি চলতে থাকবে মাদক ব্যবসা আর যুব সমাজ ধীরে ধীরে ডুবে যাবে মাদকের ভয়ানক রসাতলে? প্রশ্ন সাধারন জনমনে রয়ে যায়। এ বিষয়ে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি। কুমারখালী উপজেলা মাদক মুক্ত করতে এবং যুব সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষার স্বার্থে উল্লেখ্য বিষয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় সচেতন মহল।