কুষ্টিয়ায় হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইন নিয়ে প্রেস কনফারেন্স - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান ক্যাম্পেইন নিয়ে প্রেস কনফারেন্স

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: অক্টোবর ২৪, ২০২৪

নিজ সংবাদ ॥ নারীদের জরায়ু মুখে ক্যানসার সৃষ্টিকারী হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (এইচপিভি) বিরুদ্ধে এক ডোজ টিকাই যথেষ্ট। কুষ্টিয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন। ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মোট ৯৬ হাজার ৪০০ কিশোরীকে বিনা মূল্যে এ টিকার আওতায় আনতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ভোড়ামারা উপজেলায় ৭৩৮০, দৌলতপুর উপজেলায় ২১০১২, খোকসা উপজেলায় ৭১২৯, কুমারখালী উপজেলায় ১৪৫৪৪, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় ১৬৭৬৪ এবং মিরপুর উপজেলায় ১৫৩৪৪জন এছাড়াও ভেড়ামারা মান ৩২০০ কুমারখালী মান ১৯৩৩ এবং কুষ্টিয়া মান ৯০৯৪ জন। এসবের মধ্যে  ৫ শ্রেনিতে ২১১৭৬, ৬ষ্ঠ শ্রেনিতে ১৯৫৭৬, ৭ম শ্রেনিতে ১৯৮৬৫, ৮ম শ্রেনিতে ১৮৪৬০ এবং ৯ম শ্রেনিতে ১৬১৬৪ জনকে। এর মধ্যে স্কুলের ৯৫২৩২জন ও স্কুলের বাইরে ১১৬৮ জন কিশোরীকে টিকা দেয়া হবে।

এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার (২৩অক্টোবর) বেলা ৩টার সময় কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের সম্মেলন কক্ষে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন এক প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি পরিচালনা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)। এতে সহায়তা করছে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস (গ্যাভি)। প্রেস কনফারেন্সে আলোচনার শুরুতে এইচপিভি কী, কীভাবে এটি সংক্রমিত হয়ে জরায়ুমুখ ক্যানসার সৃষ্টি করে, এটি প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতা, অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে টিকা নিবন্ধন করার উপায় সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, ১৮দিন ব্যাপী এ কর্মসূচির প্রথম দুই সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ম থেকে ৯ম শ্রেণি এবং বাকি দিনগুলোতে গ্রুপভিত্তিকভাবে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের বিনা মূল্যে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।  প্রতিবছর বাংলাদেশে জরায়ুমুখ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান প্রায় ৫ হাজার নারী। দেশে নারীদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্যানসার এটি। এইচপিভি জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ বছর। আক্রান্ত রোগীদের প্রায় সবাই শনাক্ত হন একদম শেষ সময়ে গিয়ে। তখন আর সেরে ওঠার উপায় থাকে না।

কিন্তু, কিশোরী বয়সে মাত্র একটি টিকা নিয়ে সারা জীবনের জন্য এই ক্যানসার থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব। প্রেস কনফারেন্সে জরায়ুমুখ ক্যানসার সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মিতা রানী মজুমদার। তিনি বলেন, ‘হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস একটি যৌনবাহিত ভাইরাস। এই ভাইরাসের ১৩ ও ১৮ নম্বর সেলোটাইপ যৌনাঙ্গে ও জরায়ুমুখে ক্যানসার সৃষ্টি করে। নারীরা আক্রান্ত হলেও এটির বাহক মূলত পুরুষেরা। বাল্যবিবাহ, অপ্রাপ্ত বয়সে সন্তান ধারণ, বহু গর্ভধারণ, একাধিক যৌনসঙ্গী, ধূমপায়ী জনগোষ্ঠী, স্বল্প রোগ প্রতিরোধকারী বা এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি, প্রজনন সম্পর্কে অসচেতন জনগোষ্ঠী এই ক্যানসারের ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রেস কনফারেন্সের শুরুতেই প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডাঃ আকুল উদ্দিন বলেন, কুষ্টিয়ায় সব স্কুল ও স্কুল বহির্ভূত ৯৬ হাজার ৪ শত কিশোরীকে এইচপিভি টিকা দেওয়া হবে। টিকা গ্রহণের জন্য কিশোরীরা ওয়েবসাইট বা অ্যাপের মাধ্যমে নিজেরাই নিবন্ধন করতে পারবে।

এর জন্য প্রয়োজন হবে ১৭ ডিজিটের জন্মনিবন্ধন নম্বর। টিকা নিবন্ধনে প্রয়োজনীয় জন্ম সনদ না থাকলে তা খুব অল্প সময়েই তৈরি করা যাবে। তিনি বলেন, জন্ম সনদ না থাকলে সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে সনদ তৈরি করা যাবে। রেজিস্ট্রেশন করতে সমস্যা হলে সেখানে দেওয়া দুইটি টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে। বাবা-মায়ের নাম না থাকলে অপ্রাপ্য হিসেবে জন্ম সনদ তৈরি করা যাবে। এই উদ্যোগের বৃহত্তর লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে সম্পূর্ণভাবে জরায়ুমুখ ক্যানসার মুক্ত করা। এর জন্য এখন থেকেই সর্বজনীন জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। আমাদের সবাইকে একে অপরের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ এম লিটন উজ জামান, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাজিয়া আফরিন, ডাঃ আব্দুল্লাহ আল রশিদ, ডাঃ সাবরিনা আহমেদ প্রমুখ।