বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলায় গত কয়েকদিনে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ২৫ জন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে গতকাল মঙ্গলবার (৫ মে) এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ২৫ জন সন্দেহভাজন হামের রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই (কেএমসিএইচ) ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন। বর্তমানে এই হাসপাতালে মোট ১১৪ জন হাম আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯ জন। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত শিশুর নাম আরাফাত। বয়স মাত্র ৬ মাস।
সে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর এলাকার বিজয়ের ছেলে। হাসপাতাল রেকর্ড অনুযায়ী, গত ২ মে দুপুর ১টা ১০ মিনিটে শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল ৪ মে বিকেল ৩টায় তার মৃত্যু হয়। কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯ জন নতুন ভর্তি এবং মোট চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১৪ জন। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ৩ জন,দৌলতপুরে ২ জন এবং খোকসায় ১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ।
চলতি বছেরর গত ১৫ মার্চ থেকে ৫ মে পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, কুষ্টিয়া জেলায় এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,০৪৯ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৩ জনের শরীরে। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ৮৮৪ জন। তবে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে, যা স্বাস্থ্য বিভাগের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেনের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি এবং সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দিচ্ছে। হঠাৎ জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীকে আলাদা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলায় হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে বিশেষ মেডিকেল টিম কাজ করছে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। অভিভাবকরা শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন।
