কুষ্টিয়ায় হরতালে মাঠে নামেনি বিএনপি’র নেতা কর্মিরা!
নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা, সরকারের পদত্যাগ ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে চলমান কর্মসূচি হিসেবে রোববার (২৯ অক্টোবর) সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছিলো কেন্দ্রীয় বিএনপি। শনিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে দলটির মিডিয়া সেলের এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়। অন্যদিকে ১২ দলের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরাও রোববার সারা দেশে হরতাল পালন করব। এছাড়াও বিএনপি’র যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকও হরতালের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন। এছাড়াও আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে র্নিদলীয়, নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবীতে রোববার (২৯ অক্টোবর) সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছিলো জামায়েত ইসলামী বাংলাদেশ।

কুষ্টিয়ায় হরতালে মাঠে নামেনি বিএনপি’র নেতা কর্মিরা!
কুষ্টিয়াতে হরতালেেক কেন্দ্র করে দুই একটি বিআরটিসি বাস ছাড়া অভ্যন্তরীন ও দূরপাল্লার সকল বাস ও ট্রাক সহ ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো । কুষ্টিয়ার প্রাণ কেন্দ্র এনএস রোড ঘুওে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হরতাল উপলক্ষে বন্ধ ছিলো । শহরের প্রধান দুইটি শপিং মল পরিমল টাওয়ার ও লাভলী টাওয়ারও ছিলো বন্ধ । রিক্সা, ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা, সিএনজি ও মোটর সাইকেল চলাচল ছিলো উল্লেখ যোগ্য এবং চোখে পড়ার মত ।
এছাড়াও হরতাল উপলক্ষে জ্বালাও পোড়াও ও নশকতা রোধে এবং সাধরণ মানুষের জান মালের নিরাপত্তা দিতে পুলিশের উপস্থিতি ছিলো সর্বত্র । শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান সহ সার্বক্ষণিক টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে । অন্যদিকে জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের ভূমিকা ছিলো চোখে পড়ার মত । আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতা কর্মিও সাথে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি-জামাতের যে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ও নাশকতা রুখতেই সড়কে, পাড়ায়, মহল্লায় এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা সকাল থেকেই অবস্থান নিয়ে ছিলেন ।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলীর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মিরা সকাল থেকেই অবস্থান নেন দলীয় কর্যালয়ের সামনে । এছাড়াও ছাত্রলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন’র নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা কর্মিরা সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত শহরের ও আশে পাশের এলাকার মানুষের জীবণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছিলো বিরতিহীন টহল ।
সরেজমিনে রবিবার সকালে কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, বাস কর্মচারীদের কয়েক জন বসে অলস সময় পার করছেন । তাদের দেওয়া তথ্য মতে সকাল থেকে আন্তঃপরিবহন ও দূরপাল্লার কোন বাস কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়নি এবং আন্তঃপরিবহন ও দূরপাল্লার কোন বাস কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আসেনি । তবে বাস টার্মিনালে অল্পসংখ্যক কিছু ঝিনাইদহ, যশোর ও খুলনাগামী যাত্রী দেখা যায় । বাস সা পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে ফিওে যাচ্ছেন বিকল্প ব্যবস্থায় আশায় ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাস কর্মচারী বলেন, শুধু শুধু হরতাল ডাকার কারণে কুষ্টিয়া বাস টার্মিনালে প্রায় পাঁচ শতাধিক বাস অলস পড়ে আছে। সেই সাথে এই পেশার সাথে জড়িত প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মহীন অবস্থায় বসে আছে । হরতালের কারণে একদিকে শুধু পরিবহন সেক্টওে কয়েক শত কোটি টাকা লোকসান হয় । যা অদৌও কাম্য নয় ।
কুষ্টিয়ার চৌড়হাস মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার কোন বাস না পাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে সিএনজি অথবা ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা যোগে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন । আবার অনেক সিএনজি অথবা ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা চালককে ঝিনাইদহ, আলমডাঙ্গা ও চুয়াডাঙ্গা হেঁকে প্যাসেঞ্জার ডাকতেও শোনা যায় ।
হরতাল উপলক্ষে ভাড়া বেশী নেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে কয়েকে জন সিএনজি অথবা ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সা চালক বলেন হরতার চললেও তারা ভাড়া বেশী নিচ্ছেন না । কুষ্টিয়ার মজমপুর এলাকার চিত্রও ছিলো বেশ ব্যাস্ত । তবে দূরপাল্লার বাসের টিকেট কাউন্টার গুলোর অধিকাংশই ছিলো বন্ধ এবং সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত দূরপাল্লার কোন বাস ছড়েনি বলেও জানান বাস মালিক, শ্রমিক এবং কর্তৃপক্ষ । তবে সাধারণ যাত্রী এবং কর্মজীবি মানুষের সাথে কথা বললে তারা বলেন, আমরা হরতাল চাই না । হরতালের সংস্কৃতি বন্ধ করার দাবীও জানান তারা । কারণ হরতাল হলে অধিকাংশ বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে এবং যার ফলে মানুষের রোজগার কমে যায় । আর রোজগার কমে যাওয়ার অর্থ হলো বিপদে পড়া । দ্রব্য মূল্যে উর্দ্ধগতির কথা তুলে ধরে অনেকেই বলেন, বর্তমানে দুবেলা খেয়ে টিকে থাকা দায় । তারপর যদি হরতাল ডাকা হয় তাহলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে এবং মালিক পক্ষ তাদের বেতন কর্তন করে । যার ফলে জন জীবণে প্রভাব পড়ে ।
কুষ্টিয়া পৌর এলাকা সহ আশে আশের এলাকা ঘুরে বিএনপি-জামায়েত এর কোন নেতা কর্মিও দেখা মেলেনি । কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করেন এটা তামাশা ছাড়া কিছু না, হরতালকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়েত এর কোন কর্মসূচী না থাকার অর্থ সাধারণ জনগণ এবং রাষ্ট্রের সাথে তামাশা ।
