নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় আগের বিয়ের কথা গোপন রেখে স্বামীর টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মহিলা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের নেশারুনের কন্যা তানজিলা আক্তার বন্যা। এঘটনায় বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে তানজিলার স্বামী মামুন হোসেন। অভিযোগ পত্রে বাদী মামুন হোসেন বলেন, আনুমানিক ৮ বছর আগে আমাদের বিবাহ হয় এবং সংসার জীবনে ২টি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে, নাম- হাওয়া(৫) ও আমেনা(৩)।
গত ১ মাস যাবৎ আমার স্ত্রীর তাহার ব্যবহৃত মোবাইল ০১৯****৭৬৮ নম্বর থেকে অপরিচিতি ০১৭৪****৪৪৩ নম্বরে মাঝে মধ্যে ফোন করে তাদের মধ্যে আলাপচারিতা হতো। আমি আমার স্ত্রীকে উক্ত নম্বরে কথাবার্তা বলতে নিষেধ করি। কিন্তু সে কোন নিষেধ না মেনে কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়। গত ০৩/০৮/২০২৪ ইং তারিখে চিকিৎসার জন্য আমার স্ত্রী তার পিতার বাড়ীতে আসে এবং সেখানে অবস্থান করে।
গত ১০/০৮/২০২৪ ইং তারিখ সময় আনুমানিক দুপুর ২.০০ টায় আমার বড় মেয়েকে তার নানার বাড়ীতে রেখে ছোট মেয়েকে নিয়ে আমার বাড়ীতে যায়। ঐদিন আনুমানিক সন্ধ্যা ৭.০০ টায় আমি বাড়ীতে না থাকায় কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ী হতে চলে যায়। পরে আমি তার মোবাইল নম্বরে ফোন দিলেও কথা হয়নি। আমি বিশেষ কাজে কুষ্টিয়া শহরে ঐদিন রাতে অবস্থান করি এবং পরের দিন ১১/০৮/২০২৪ ইং তারিখে বাড়ীতে যেয়ে আলমারীর চাবি খোলা ও ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। আমার বোন পলির রাখা ৬ লক্ষ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণের ২টি হার যাহার মূল্য ২,৪০,০০০ টাকা এবং আমার গরু বিক্রয়ের নগদ ১ লক্ষ টাকা বিবাদীর কাছে গচ্ছিত ছিল।
বিবাদী যাওয়ার সময় ৭ লক্ষ টাকা ও গহনা লইয়া গিয়াছে। আমি বিবাদীর পিতার বাড়ীতে যেয়ে দেখি বিবাদী নেই এবং আমার বড় মেয়ে তার নানার কাছে রয়েছে এবং আমি আমার স্ত্রীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে পিতামাতা আমাকে বলে সে চলে গেছে তুমি তোমার পথ দেখ। আমি আনুমানিক রাত ১২.৩০ টায় ০১৭৪****৪৪৩ নম্বরে ফোন দিলে বিবাদী ফোন ধরে আমাকে বলে আমরা বিবাহ করিয়াছি। আমার সাথে আর কখনো যোগাযোগ করবে না, করলে অসুবিধা আছে বলে হুমকি দেয়। এবিষয়ে ০১৭৪****৪৪৩ নম্বরে যোগাযোগ করে সত্যতা জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি তানজিলা আক্তার বন্যাকে বিয়ে করেছি। প্রথম স্বামীকে তালাক না দিয়েই বিয়ে করার বিষয় জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ওসি মোঃ আকিবুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পলিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার বিষয়ে অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। উল্লেখ্য, প্রতারণার মাধ্যমে যদি পুনরায় বিয়ে করে তবে যাকে প্রতারণা করে বিয়ে করা হলো, তিনি অভিযোগ করলে তা ৪৯৫ ধারা মোতাবেক শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। আবার কেউ জেনে শুনে, অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করলে উক্ত বিয়ে দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারা মোতাবেক সম্পূর্ণ বাতিল হবে। এক্ষেত্রে, তা দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা মোতাবেক ব্যভিচার হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অপরাধ প্রমাণ হলে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হতে পারে।
