বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় চলতি বছরে ধান-চালের সরকারি নির্ধারিত দাম নিয়ে মিলার ও কৃষকদেও মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। মিলাররা বলছেন, সরকারি নির্ধারিত ৩২ টাকা কেজিদওে ধান কিনে চাল তৈরি করতে খরচ পড়ে ৪৬ টাকার বেশি। সেখানে চালের কেজি ৪৫ টাকা নির্ধারন করা সঠিক হয়নি বলে মত তাদের। আর সরকারের নির্ধারিত মূল্যেও চেয়ে বাজাওে ধানের দাম বেশি হওয়ায় খাদ্য গুদামে ধান দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছে কৃষকেরা। ফলে জেলায় এবছর সরকারি ভাবে ধান ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
কুষ্টিয়া জেলায় চলতি বছওে ৩৫ হাজার মেট্রিকটন সেদ্ধ চালও ৩ হাজার ৬০০ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহর লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করেছে সরকার। ইতিমধ্যে জেলায় নতুন ধান ঘওে তুলতে শুরুও করেছে কৃষকেরা। তবে খোলা বাজারে ভালো মানের এক মণ ধান ১৩০০ থেকে ১৪০০ টাকা পর্যন্তবিক্রি হচ্ছে। আর সরকার প্রতি মণ ধানের মূল্য নির্ধারন করেছে ১২৮০ টাকা। তাই সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহ কম কৃষকদের।
কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, সরকার যে রেটে ধান ক্রয় করছে তাতে আমাদের লোকসান হয়। আমরা বাইওে ধান বিক্রয় করলে বেশি দাম পায়। সেই কারণেই সরকারের বেধে দেওয়া দামে আমরা ধান সরবরাহ করতে আগ্রহী নই।
চলতি মাসের ৭ তারিখে পরিপত্র জারি হলেও এখনো কুষ্টিয়ার অনেক মিলাররাই চাল দেওয়ার চুক্তিই করেননি খাদ্য বিভাগের সাথে। সরকারের নির্ধারিত মূল্য ৪৫ টাকা দওে চাল দিতে অনাগ্রহ মিলার দেরও।
জানতে চাইলে খাজানগরের দাদা রাইসমিলের সত্বাধিকারী আরশাদ আলী বলেন, বাজার থেকে আমরা যে মূল্যে ধান ক্রয় করি সেই হিসাবে প্রতিকেজি চাল উৎপাদনে আমাদের ব্যয় হয় ৫০ টাকা। কিন্তু সরকার প্রতিকেজি চালের দাম নির্ধারণ করেছে প্রতিকেজি ৪৫ টাকা। সেই কারণে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাল দিতে গেলে মিলাদের অনেক কষ্ট হবে।
সরকার নির্ধারিত মূল্যে চাল সরবরাহের বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার চাল ব্যবসায়ী মিয়া ভাই অটোরাইস মিলের সত্বাধিকারী জয়নাল আবেদিন প্রধান বলেন, ধানের দাম হিসাবে করলে প্রতিকেজি চালের মূল্য পড়ে ৪৮ টাকা ৮৮ পয়সা। সেখানে সরকার আমাদের চাউলের রেট দিছে ৪৫ টাকা।
এদিকে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ধান-চাল সংগ্রহ’র লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে সব ধরনের প্রস্ততি সম্পূর্ন করেছেন তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে মিলমালিকরা চুক্তি বদ্ধ হবেন বলেও আশা তাদের।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. আল-ওয়াজিউর রহমান বলেন, কুষ্টিয়াতে যে পরিমান ধান/চাল সংগ্রহ করার লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই হিসাবে আমাদের পর্যাপ্ত পরিমান খাদ্য গুদাম খালি রয়েছে। তাতে আমরা আশা করি সুন্দর ভাবে ধান/চাল সংগ্রহ শুরু করতে পারবো এবং লক্ষমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবো।
উল্লেখ্য, বিগত বছর গুলোতে কুষ্টিয়া জেলায় চাল সংগ্রহ’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হলেও ধান সংগ্রহ’র কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ।
