নিজ সংবাদ ॥ বৈষম্য দুরীকরনে কুষ্টিয়ায় শিক্ষকরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও জাতীয়করণের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের পদায়ন বন্ধ রাখা এবং শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের তিন দফা দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করেছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টম্বর) সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বেসরকারি স্কুল মাদ্রাসার শিক্ষা পরিবার এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসার দুই শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করে। এতে শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে শিক্ষকরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। শিক্ষকরা বলেন, বৈষম্য দূরীকরণের জন্য মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ ও শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে।
একইসঙ্গে জাতীয়করণের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষকদের পদায়ন ও বদলি বন্ধ রাখার আহব্বান জানান। এসময় বক্তব্য রাখেন, মিলপাড়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আলীম, দি ওল্ড কুষ্টিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল হক, চৌরহাস মুকুল সংঙ্গ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ, মধুপুর হদিরননেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন, উজানগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ রেজা, সৈয়দ আলতাফ হোসেন নিন্ম মাধ্যমিক বালক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেখ সালাহ উদ্দিন আহমদ, শহীদ হাসান ফয়েজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনিসুর রহমান ও শ্যামলী ইসলাম সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ।
এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে তাঁরা জানান, মাধ্যমিক স্তরে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৯৭%। এই ৯৭% শিক্ষকের মধ্যে সামাজিক ও আর্থিক বৈষম্য তৈরী করে শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব নয়। জাতীয়করণের মধ্যেই মাধ্যমিক শিক্ষার যাবতীয় সমস্যার সমাধান। প্রধান শিক্ষকরা ৭ম গ্রেড। এখন সরকারী স্কুলের ৯ম গ্রেড প্রাপ্ত শিক্ষকদের উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। এটা আমাদের জন্য অসম্মানের। আমরা এটা মানি না। যেহেতু আমরা ৯৭% এর প্রতিনিধিত্ব করি সুতরাং সেখানে আমাদেরও অংশগ্রহণ থাকতে হবে। উল্লেখ্য, এর অংশ হিসেবে ৩ দফা দাবিতে সারা দেশে বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষকরা মানববন্ধন ও শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারক লিপি পেশ করেন।
