বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া এলাকায় মুস্তাক আহমেদ পার্থ (৩২) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গতকাল সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন ও হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক বন্ধ করে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। নিহত মুস্তাক আহমেদ পার্থ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া কদমতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি হেলাল সরদারের ছেলে এবং স্থানীয় বেঙ্গল মেটাল ইন্ডাস্ট্রিতে রিং মিস্ত্রী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসের ৫ মার্চ কুষ্টিয়া শহরতলীর জুগিয়া দাখিল মাদ্রাসার পেছনে সন্টু নামে এক ব্যক্তিকে নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে এলাকাবাসী। পবিত্র রমজান মাসে এমন ঘটনায় এলাকাবাসীর সঙ্গে নিহত মুসতাক আহমেদ পার্থও প্রতিবাদ করেন। এ ঘটনার জেরে পরদিন বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত সন্টু, তার দুই ছেলে স্বাধীন ও শাকিলসহ কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য মিলে পার্থের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে । এ সময় তারা তাকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. সন্টু, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া মাঠ পাড়ার গোপাল আলীর ছেলে। স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনায় আরো দুই যুবক আহত হন। আহতরা হলেন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জুগিয়া কদমতলার সাইফুল ইসলামের ছেলে সজীব ইসলাম ও মোঃ আছায় এর ছেলে মোঃ আশিক। এদিকে পার্থ হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসি দেখানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
গতকাল কুষ্টিয়া ঈশ্বরদী মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পবিত্র রমজান মাসে নারীসহ লম্পট সন্টুকে আটকের ঘটনায় এলাকাবাসী সবাই প্রতিবাদ করেন। অভিযুক্তরা মুসতাক আহমেদ পার্থসহ তিনজনকে টার্গেট করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে। হামলায় দুই যুবক প্রাণে বেঁচে গেলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় পার্থ মৃত্যুবরণ করে। এই ঘটনা নিছক কোন ঘটনা নয়, সম্পূর্ণভাবে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পার্থকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর। থানা পুলিশ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করছে, যা কোনভাবেই কাম্য নয় বলেও দাবি এলাকাবাসীর। কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর ঘটনাস্থল জানান, মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে শিথিলতা দেখানোর অভিযোগ সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন। কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই ও পার্থ হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাদশা মিয়া জানান, মামলার তদন্তে কোন ধরনের গাফিলতি করা হচ্ছে না। এই মামলায় এজারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত আছে। খুব দ্রুতই আসামিদের গ্রেফতারপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলেও দাবি করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। এদিকে মুসতাক আহমেদ পার্থ হত্যার ঘটনায় জুগিয়া কদমতলাসহ অত্র এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। এলাকাবাসী জানিয়েছে, দ্রুত সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ ব্যর্থ হলে এলাকাবাসী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
