বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ট্রাক থামিয়ে নৃশংস ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে এক ট্রাকচালক গুরুতর আহত হন। ডাকাতদের হামলায় তার ডান হাতের কয়েকটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা এলাকার কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের শান্তিডাঙ্গা (১৪ মাইল) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ট্রাকচালকের নাম আলমগীর হোসেন (৪০)। তিনি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার মজিদপুর এলাকার সাহেব আলী মোড়লের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যশোর থেকে শুঁটকি মাছ বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন আলমগীর হোসেন। রাত দেড়টার দিকে শান্তিডাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে সড়কে ফেলে রাখা গাছের গুঁড়ির কারণে তিনি ট্রাকটি থামাতে বাধ্য হন। এ সময় মুখোশধারী একদল ডাকাত ট্রাকটি ঘিরে ফেলে এবং চালককে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হয়। ডাকাতরা চালকের কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। আরও টাকা দাবি করলে পুনরায় আঘাত করা হয়। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম জানান, আহত ট্রাকচালকের হাতে মারাত্মক আঘাত রয়েছে। শুরুতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলেও বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। ঘটনাস্থল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার খুব কাছাকাছি হওয়ায় এলাকাবাসী ও পথচারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিয়মিত পুলিশের টহল থাকার কথা থাকলেও কীভাবে গভীর রাতে এমন সংঘবদ্ধ ও নৃশংস ডাকাতির ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুদ রানা বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন উল্লেখ করে জানান, তার অধীনস্থ কর্মকর্তারা তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে ডাকাতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কুষ্টিয়া চৌড়হাস হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ওবায়েদ জানান, ঘটনাস্থল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার আওতাভুক্ত হলেও এটি হাইওয়ে সড়কে সংঘটিত হয়েছে। দায়িত্ব এড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমরা বিত্তিপাড়া বাজার পর্যন্ত টহল দিয়ে থাকি।
হাইওয়ে পুলিশের একটা গাড়ি দিয়ে পুরো ৭৯ কিলোমিটার সড়ক কাভার করা বাস্তবসম্মত নয়। জেলা পুলিশ ও থানা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল দেওয়া হয়।” তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। এদিকে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি উন্নয়নে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
