বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রী শ্রী ১০৮ স্বামী শিউনারায়ণ মহারাজজীর সন্তপতি ৩০৯তম আবির্ভাব বর্ষস্মরণ মহোৎসব ও ধর্মালোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পরে কুষ্টিয়া শহরের রাজারহাট এলাকায় আলো কমিউনিটি সেন্টারে, আশ্বিনী সংঘ পূজা কমিটি, রবিদাস সম্প্রদায়, দেশওয়ালীপাড়া কুষ্টিয়া আয়োজিত একদিনের জন্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া সদরে ধানের শীষের কান্ডারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মঈদ বাবুল, জেলা কৃষক দলের আহবায়ক আরিফুর রহমান সুমন, জেলা বিএনপির সাবেক সহছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান মিথুন,
বীনাপানি গ্রুপের স্বত্বাধিকারী শ্রী পালন কুমার দাস, প্রধান বক্তা ছিলেন, ঢাকা মিরপুর থেকে আগত শ্রী পরেশ শিবানন্দ, বিশেষ বক্তা ছিলেন, ঢাকার অবসর প্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা শ্রী ভোলানাথ রবিদাস, সহ-প্রতি ঋত্বিক, সৎসঙ্গ কুষ্টিয়ার শ্রী শ্যামল চন্দ্র শীল প্রমূখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া আশ্বিনী সংঘ রবিদাস সমাজ কমিটির সভাপতি শ্রী শংকর রবিদাস। এছাড়া সার্বিক সহযোগিতা করেন স্থানীয় সুধিজন ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তবৃন্দ, সাধু-সন্ন্যাসী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনুষ্ঠান সূচনা মহারাজজীর জীবনাদর্শ, মানবকল্যাণে তাঁর অবদান এবং ধর্মীয় চেতনা নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, আপনাদের মাঝে এসেছি সংহতি প্রকাশের জন্য, যেহেতু এটা রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, এটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
ধর্ম যার উৎসব সবার। ইতিপূর্বে আপনাদের মাঝে এসে আপনাদের সমস্যার কথা শুনেছি, সমাধানের চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এদেশে সামাজিক ধর্মীয় সম্পৃতিতে বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বাস করি জন্মসূত্রে যেমন দেশের নাগরিক, তেমনি আপনারাও এদেশের নাগরিক। আমরা যেভাবে স্বাধীনতা ও অধিকার ভোগ করি, ঠিক একই ভাবে আমাদের সনাতনী ভাই ও বোনেরা স্বাধীনতা ও অধিকার ভোগ করবে। দেশের অনেক জ্ঞানীরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যালঘু হিসেবে অবিহিত করতে চাই। কিন্তু আপনারা দেখেছেন আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীরা কখনো আপনাদের সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু, এই কনসেপ্টে বিশ্বাস করি না। আমরা মনেকরি, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলে এ দেশের নাগরিক। অতিতে আপনাদের পাশে ছিলাম আগামী দিনে আপনাদের যে কোন সমস্যা সমাধানে পাশে থাকবো ইনশাআল্লাহ।
এছাড়া সভায় বক্তারা বলেন, শ্রী শ্রী ১০৮ স্বামী শিউনারায়ণ মহারাজজী ছিলেন মানবপ্রেম, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ বর্তমান সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিকতার পথনির্দেশনা দেয়। ধর্মালোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা ভক্তদের দৈনন্দিন জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা, মানবসেবা এবং সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ভজন-কীর্তন, নামসংকীর্তন ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। শেষে শান্তিপূর্ণভাবে মহোৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয় এবং আয়োজকরা সকল ভক্ত ও অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
