যথাযথ মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ। বিজয় দিবস উপলক্ষে শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৬টা ৩৯ মিনিটে ৩১ বার তপোধ্বনির মধ্যেদিয়ে কালেক্টরেট চত্বরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনটির কার্যক্রম শুরু হয়। পতাকা উত্তোলন করেন জেলা প্রশাসক মো: এহেতেশাম রেজা।

মহান বিজয় দিবসকে ঘিরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সহ পুরো এরিয়ায় বর্ণিল আলোকসজ্জা করে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। অন্য দিকে মহান বিজয় দিবস উদযাপনে পুলিশ সাইন্সের পুরো এরিয়ায় বর্ণিল আলোকসজ্জা করা হয়। দিনটিতে সূর্যোদয়ের শুরুতে জেলা পুলিশ কার্যালয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তলন করেন পুলিশ সুপার এ এইচ এম আব্দুর রকিব।

এদিকে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বরে জেলা প্রশাসক মো: এহেতেশাম রেজা এর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী ও পুলিশ সুপার এ এইচ এম আব্দুর রকিব এর নেতৃত্বে জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা কেন্দ্রীয় শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর মুর্যালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এসময় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট শাহাদাত বরণকারী তার পরিবারবর্গ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত, জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোছা. শারমিন আখতার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাসিমা বানু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন, ক্রাইম এন্ড অপস) পলাশ কান্তি নাথ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা, জেলার সাংবাদিক, আওয়ামী লীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শিক্ষা, সামাজিক সংগঠন পৃথক পৃথকভাবে শহীদদের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে। অপর দিকে কুষ্টিয়া শেখ কামাল স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক মো. এহেতাশাম রেজা ও পুলিশ সুপার এ এইচ এম আব্দুর রকিব আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে দিনব্যাপী বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। সেখানে পুলিশ, আনসার, বিএনসিসিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন এবং সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক চত্বরে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক মঞ্চে, জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং বিজয় দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, ১৬ডিসেম্বর দিনটি বাঙালি জাতির জন্য একটি উল্লাসের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা আমাদের একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। আর তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার প্রত্যয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে সকলকে সহযোগীতা করার আহব্বান করেন তিনি।
