বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তলপেট, বাম পায়ের উরু সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলি করে আশরাফুল ইসলাম (৩৬) নামে এক রং মিন্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এবং সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতাকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) নিহত আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার ইতি কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলাটি করেন বলে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান। গত ৫ অগাস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে শহরের বক চত্ত্বর এলাকায় আশরাফুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি গুলি করে হত্যা করা হয়। সে রঙ মিস্ত্রির কাজ করতো। আশরাফুল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার শালদহ গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে।
এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মী সহ মোট ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৫০-৬০ জনকে। নিহতের স্ত্রী লাবণী আক্তার ইতি এজাহারে উল্লেখ করেছেন, কুষ্টিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ৫ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে আমার স্বামী আশরাফুল ইসলাম কুষ্টিয়া শহর থেকে শালদহ গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বকচত্বরের উত্তর দিকে রউফ চৌধুরীর মার্কেটের সামনে পৌছাইলে আসামীরা আমার স্বামীকে দেখিয়া ধাওয়া করে।
একপর্যায়ে এক নম্বর আসামী মাহবুবউল আলম হানিফ ও দুই নম্বর আসামী আতাউর রহমান আতার হুকুমে ১৪ নম্বর আসামী শামীম বিশ্বাস ডালিম, ১৫ নম্বর আসামী মেহেদী হাসান বাবুল ও ১৬ নম্বর আসামী রাজন আগ্নেয়াস্ত্র পিস্তল দিয়ে আমার স্বামীকে হত্যার উদেশ্যে গুলি করে। তাদের গুলির আঘাতে আমার স্বামীর তলপেট, বাম পায়ের উরু ও শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলিবিদ্ধ হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে তাৎক্ষনিক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এছাড়াও অন্যান্য আসামীরা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার স্বামীর শরীরের লোহার রড, লাঠি দিয়ে বিভিন্নস্থানে এলোপাতাড়ীভাবে মারপিট করিয়া গুরুত্বর জখম করে।
একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার স্বামীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এজাহারে উল্লেখিত আসামিরা হলেন-কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ অজয় সুরেখা, সানোয়ার মোল্লা, মমিনুর রহমান মোমিজ, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুষ্টিয়া আদালতের পিপি অনুপ কুমার নন্দী, যুবলীগ নেতা জেড এম সম্রাট, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান, সাদবার, রজব আলী, চঞ্চল শেখ, মহিদুল ইসলাম কাউন্সিলর, শামীম বিশ্বাস ডালিম, মেহেদী হাসান বাবুল, রাজন, সবুজ, বিজয়, ঝন্টু, রইচ, মামুনুর রশিদ, হেলাল প্রামানিক, শফিউর রহমান হেলাল, মমিনুল হক মমিন, রাশিদুল হক, আনিছ (৩৭), জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ, মোখলেছুর রহমান শিলন ও হান্নান।
কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, আশরাফুল হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। ২৯ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদেরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
