মোশারফ হোসেন ॥ গাজী টায়ার্সের কারখানায় সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনার পর কোম্পানিটির উৎপাদিত টায়ার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে সারা দেশে। এতে দেশের বাজারে টায়ারের সরবরাহ কমে যাওয়ার এমন দাম বেড়েছে বলে জানা টায়ার ব্যাবসায়ীরা। এদিকে গত দেড় মাসে খুচরা পর্যায়ে সব ধরনের টায়ারের দাম ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। রিকশা-ভ্যানের প্রতিটি টায়ারের দাম ১০০-১৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
বাস-ট্রাকের মতো ভারী গাড়ির প্রতিটি টায়ারের দাম বেড়েছে ৫০০-৬০০ টাকা। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে উৎপাদকদের বক্তব্য হচ্ছে, গত কয়েক মাসের মধ্যে রাবারসহ টায়ার তৈরির কিছু দেশি কাঁচামালের দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বিদেশি কাঁচামাল আমদানির ব্যয়ও। এদিকে দেশি টায়ার উৎপাদক ও পাইকারি বিক্রেতাদের কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, ছাত্র আন্দোলনের পর হঠাৎ করে দেশের বাজারে সব ধরনের টায়ারের দাম বেড়েছে। টায়ার ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, রিকশা, ভ্যান, সিএনজিসহ থ্রি-হুইলার, বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ প্রায় সব ধরনের গাড়ির টায়ারের দাম বেড়েছে। এতে করে খুচরা পর্যায়ে টায়ার বিক্রি কমে গেছে।
এতো দাম বাড়লে ভ্যান , রিকশা, বাইসাইকেল চলাচল কারিনা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। গাজী টায়ার্সের অ্যাকাউন্টস ও ফিন্যান্স বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম গণমাধ্যমে জানান, অগ্নিকাণ্ড ও লুটপাটের ঘটনায় তাঁদের সব মিলিয়ে দুই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে তাঁদের সব ধরনের টায়ার বিক্রি বন্ধ রয়েছে। নেপালে যে টায়ার রপ্তানি হতো, সেটিও এখন বন্ধ। গাজী টায়ার এর এজেন্টরা জানান, দেশে যানবাহনে ব্যবহৃত টায়ারের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ সরবরাহ করত গাজী টায়ার্স কোম্পানি। বিশেষ করে রিকশা ও ভ্যানের মতো হালকা
যানের টায়ার বিক্রিতে গাজী টায়ারের হিস্যা ছিল ৩০–৪০ শতাংশ। এ ছাড়া বাস-ট্রাকসহ ভারী যানবাহনের টায়ারও অল্প পরিমাণে বিক্রি করত তারা। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, গাজী টায়ারের উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে বাজারে প্রভাব পড়েছে। ভ্যান চালক রমজান এর সঙ্গে কথা হয় তিনি বলেন, প্রতিটা ভ্যানের টায়ার প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে এতে করে, আমাদের চরম সমস্যা হচ্ছে। টায়ার এর দাম বাড়লেও সেই তুলনায় ভাড়া বাড়েনি। এই ভাবে চললে ভ্যান চালানো যাবেনা।
