কুষ্টিয়ায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৪ উদযাপন - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৪ উদযাপন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ১, ২০২৪

রঞ্জুউর রহমান ॥ কুষ্টিয়ায় বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৪ উদযাপন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৩১ মে) সকাল দশটা কালেক্টরেট চত্বরে জেলা প্রশাসন কুষ্টিয়া এর আয়োজনে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ প্রতিহত করি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত’এই প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয় পরে র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আবদুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে  বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৪ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিভিল সার্জন কুষ্টিয়া ডাঃ মোঃ আকুল উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ মিজানুর রহমান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব শাখা) রেকসোনা খাতুন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা) মুমতাহিনা পৃথুলা, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (আইসিটি শাখা) মোঃ জাহিদ হাসান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ই-সেবা কেন্দ্র) আবু সালেহ মোঃ নাসিম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (স্থানীয় সরকার শাখা) মোঃ আব্দুর রকিব, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ পীতম শীল, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও ওয়ারকার ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট (সাফ) এর সদস্যবৃন্দ ও জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। উপস্থিত বক্তরা স্বাস্থ্যের ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে বলেন,  বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস ২০২৪ এর এবারের প্রতিপাদ্য প্রোটেক্টিং চিলড্রেন ফ্রম টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রি ইন্টারফেয়ারেন্স অর্থাৎ তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ প্রতিহত করি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য ২০২৩ অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারের ফলে বিশ্বে প্রতি বছর ৮ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা যায়। তামাক এবং ধূমপান, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও ফুসফুসের ব্যাধিসহ মুখ, গলা, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয়, মূত্রাশয়, কিডনি, লিভার এবং পাকস্থলীর মতো একাধিক অঙ্গকে প্রভাবিত করে এবং ২০টিরও বেশি বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার রোগ ঘটায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, তামাকের মধ্যে থাকা নিকোটিন এর অত্যন্ত আসক্তি এবং ফলে তামাকের ব্যবহার কার্ডিওভাসকুলার ও শ্বাসযন্ত্রের রোগসহ অন্যান্য রোগ দুর্বল স্বাস্থ্য ও মৃত্যুর প্রধান ঝুঁকির কারণ। তামাক অধূমপায়ীদের জন্যও মারাত্মক হতে পারে। সেকেন্ড-হ্যান্ড ধূমপান স্বাস্থ্যের প্রতিকূল ফলাফলের সঙ্গে জড়িত। যার ফলে বছরে ১.২ মিলিয়ন মৃত্যু ঘটে। প্রায় অর্ধেক শিশু তামাকের ধোঁয়া দ্বারা দূষিত বায়ুতে শ্বাস নেয় এবং ৬৫ হাজার শিশু গর্ভবতী থাকাকালীন ধূমপানের কারণে প্রতি বছর মারা যায়। গর্ভবতী থাকাকালীন ধূমপানে শিশুর জীবনব্যাপী স্বাস্থ্যগত অসুস্থার কারণ হতে পারে। তাই তামাক-সম্পর্কিত অসুস্থতা এবং মৃত্যুহার হ্রাস রোধে তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ একান্ত অপরিহার্য। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, আমরা যেদিক দিয়ে দেখি কিংবা শুনি তামাকের ক্ষতিকর দিকটায় দেখছি এবং শুনছি। যদি আমরা বলি দেশে মোট ধূমপায়ীর সংখ্যা কত? তাহলে  আমি বলবো আমরা সবাই, কারণ আমরা সবাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধূমপানের শিকার। একজন প্রত্যক্ষ ধূমপায়ীর থেকে পরোক্ষ ধূমপায়ীর স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও স্বাস্থ্যের ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই বেশি হয়। ধূমপানের ফলে দেহে নানাবিধি প্রাণঘাতী রোগ যেমন হার্ট অ্যাটাক, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, ফুসফুসে ও পাকস্থলীতে নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বর্তমান বাংলাদেশের মৃত্যু ও পুঙ্গুত্ববরণের প্রধান চারটি কারণ হচ্ছে তামাক। এছাড়াও দেশে তামাক জনিত চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে মানুষের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৩০ হাজার ৫৬০কোটি টাকা।তাই আমাদের সবার উচিত তামাক এবং  ধূমপান পরিহার করা।