কুষ্টিয়ায় বিদ্যালয়ের ভেতরেই শিক্ষকদের প্রাইভেট বাণিজ্যের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় বিদ্যালয়ের ভেতরেই শিক্ষকদের প্রাইভেট বাণিজ্যের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদরের বটতৈল এলাকায় অবস্থিত বটতৈল মীর আবু আব্দুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান অবনতির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের ভেতরেই শিক্ষকদের প্রাইভেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে যেমন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, অন্যদিকে বাড়ছে অভিভাবক ও স্থানীয়দের অসন্তোষ। স্থানীয় সূত্র ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত পাঠদানের পরিবেশ ভেঙে পড়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভালো শিক্ষার আশায় দূরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছে। ফলে বছর বছর কমছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি। অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্ধারিত ক্লাস শুরুর আগে কিংবা সমান্তরাল সময়ে বিদ্যালয়ের কক্ষগুলো ব্যবহার করে একাধিক শিক্ষক অর্থের বিনিময়ে পৃথক ব্যাচে প্রাইভেট পাঠদান করছেন।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ের কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রাইভেট ক্লাস পরিচালনার দৃশ্য দেখা গেছে। অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন- সহকারী শিক্ষক আব্দুস সালাম, নজরুল ইসলাম, সালমা খাতুন, সাহাবুল ইসলাম ও কামাল উদ্দিন। স্থানীয়দের দাবি, যারা প্রাইভেট পড়ছে না তারা শ্রেণিকক্ষে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পাচ্ছে না। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। একাধিক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্কুলে ঠিকমতো পড়ানো হয় না। পরে একই শিক্ষক স্কুলের ভেতরেই টাকা নিয়ে পড়ান। বাধ্য হয়ে সন্তানকে প্রাইভেটে দিতে হয়। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয়ের ভেতরে বা পাঠদানের নির্ধারিত সময়ে নিজস্ব শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো নিষিদ্ধ। শিক্ষা প্রশাসনের একাধিক পরিপত্রে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী একটি চক্রের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেনা খাতুন বলেন, এ বছর প্রাইভেট পরিচালনার কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। গত বছর নেওয়া হয়েছিল। তবে বিদ্যালয়ের কক্ষ ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মন্তব্য এড়িয়ে যান তিনি। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শামীম আহমেদ বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার এবং শিক্ষাঙ্গনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও কমে যেতে পারে।