বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. শাহিনুর রহমান শাহিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী মো. সবুজ কুষ্টিয়া মডেল থানায় শাহিনসহ দুইজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কুষ্টিয়া শহরের দেশওয়ালীপাড়ার মো. ফজলুর রহমানের ছেলে মো. সবুজের সাথে রাজার হাট মোড় এলাকার মো.শাহিনুর রহমান শাহিনের পূর্ব আত্মীয়তার (বেয়াই) সম্পর্ক। সেই সুবাদে শাহিন সবুজকে উচ্চ বেতনে হংকং পাঠানোর প্রস্তাব দেন।
এতে সবুজ রাজি হয়ে সরল বিশ্বাসে গত এক বছর আগে শাহিনকে ৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা গ্রহণের পর শাহিন জানান ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকার রানা (৪৫) নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে বিদেশ পাঠানোর প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে এবং সমস্ত টাকা তার কাছেই জমা দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সবুজকে বিদেশে পাঠানো হয়নি। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,ভুক্তভোগী সবুজ তার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা বারবার টালবাহানা শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় অভিযুক্তরা কেবল ৪৮ হাজার টাকা ফেরত দিলেও বাকি ৩ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। গত ২১ ফেব্রুয়ারি সবুজ পুনরায় টাকা চাইলে শাহিন তাকে মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শাহিন ও তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনরা মিলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছে। তারা বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার একাধিক যুবকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এতে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে মো. শাহিনুর রহমান শাহিন বলেন,”আমার হাতে টাকা দেয়নি। এই টাকার মালিকও না। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি বিদেশ পাঠায় না। আমার সুমুন্দি হংকং পাঠায়। যে নিয়েছে সে দিবে। আমি কিছু জানি না।” কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন,”আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
