কুষ্টিয়ায় বাড়তি ভাড়ার চাপে সাধারণ মানুষ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় বাড়তি ভাড়ার চাপে সাধারণ মানুষ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া থেকে ভেড়ামারা রুটে সিএনজি ভাড়া ছিল জনপ্রতি ৫০ টাকা। পাঁচজন যাত্রী নিয়ে মোট ভাড়া দাঁড়াত ২৫০ টাকা। কেউ রিজার্ভ নিলে গুনতে হতো আড়াইশ টাকা। কিন্তু সড়কের বেহাল দশা ও চাঁদা বৃদ্ধির অজুহাতে কয়েক মাস আগে ভাড়া বাড়িয়ে ৭০ টাকা করা হয়। চালকদের দাবি ছিল, আগে যেখানে ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হতো, তা কয়েক গুণ বেড়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, সড়ক মেরামত হলে ভাড়া আগের মতো কমবে। কিন্তু বাস্তবে তা আর হয়নি। বরং বাড়তি ভাড়াই স্থায়ী হয়ে গেছে। এতে প্রতিদিনের যাতায়াতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

শুধু সিএনজি নয়, শহর এলাকায় ইজিবাইক ভাড়াতেও একই চিত্র। মজমপুর থেকে বড় বাজার কিংবা থানা ট্রাফিক মোড় থেকে মোল্লা তেঘরিয়া মোড়—যেখানে ভাড়া ছিল ৫ টাকা, তা বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা। ইজিবাইক চালাতে সরাসরি জ্বালানি তেল না লাগলেও তেলের দাম বাড়ার পরদিন থেকেই ভাড়া দ্বিগুণ করা হয়। এ নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের কথা কাটাকাটি, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে দূরপাল্লার পরিবহনেও বেড়েছে চাপ। আগে ৪৫০ টাকায় ঢাকায় যাওয়া গেলেও এখন গুনতে হচ্ছে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত। ফলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য যাতায়াত ব্যয় বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলে। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অনেক ক্ষেত্রে দাম আর কমে না। এতে আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য নষ্ট হয়। কুষ্টিয়ার সাধারণ মানুষ বলছেন, তাদের আয় বাড়েনি, কিন্তু ব্যয় বেড়েছে ধাপে ধাপে। প্রতিদিনের যাতায়াত, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, চিকিৎসা বা শিক্ষা—সবখানেই বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট কোনো প্ল্যাটফর্ম না থাকায় তারা কার্যত নীরব দর্শক।  সব মিলিয়ে বাড়তি ভাড়া ও মূল্যবৃদ্ধির চাপে কুষ্টিয়ার জনজীবনে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়া নির্ধারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। জনগণের তো আম পাবলিক মাত্র। কারও কাছে অভিযোগ করার জায়গা নেই। তাদের কোন সংগঠন নেই, দল নেই, কমিটি নেই। শুধু নেই আর নেই। তারা তাদের আয়রোজগারের মধ্য দিয়ে তার পরিবারের প্রতিচ্ছবি হয়ে দিনরাত খাটুনি খেটে থাকে। এভাবেই চলছে জনতার দিনলিপি।