কুষ্টিয়ায় বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব, ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ২২ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব, ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ২২

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ৩০, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া জেলায় গত কয়েকদিনে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ২২ জন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১০২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন ও মাঠ পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে  গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া জেলায় সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২২ জনই নতুন রোগী। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে জেলায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৭ জন। জেলার প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২৭ জন। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৬৬ জন। মিরপুর উপজেলায় নতুন ২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে কুমারখালী, দৌলতপুর ও খোকসা উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো রোগী ভর্তি না হলেও সেখানে আগে থেকে ভর্তি হওয়া রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হামের এই প্রাদুর্ভাবে অদ্যাবধি আজ ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলায় মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৭০ জনে। এর মধ্যে ৩ জন রোগীর ক্ষেত্রে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৬৮ জন। বর্তমানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১০২ জন। কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে নিয়মিত এই তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। হঠাৎ তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা র‌্যাশ, চোখ লাল হওয়া এবং সর্দি-কাশি হামের প্রধান লক্ষণ। আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করার এবং পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। একই সাথে সংক্রমণ রোধে আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জেলায় হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে আরও সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।