বিশেষ প্রতিনিধি ॥ মহান মে দিবসে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা শাখার আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আট ঘন্টা শ্রম দিবস, গনতান্ত্রিক শ্রম আইন, ৩০হাজার টাকা জাতীয় নিম্নতম মূল মজুরি ঘোষণা এবং হোটেল রেস্তোরা, রাইচ মিল, চাতাল, স’মিল, ফার্নিচার, নির্মান, স্বর্ণ শিল্প, লোড আনলোড ও পরিবহণ তথা প্রাতিষ্ঠানিক- অপ্রাতিষ্ঠানিক সকল সেক্টরে শ্রম আইন বাস্তবায়ন করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন, এবং সাম্রজ্যবাদী অন্যায় যুদ্ধে বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত করার বিরুদ্ধে শ্রমিক-কৃষক জনগণের প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।
কুষ্টিয়াতে শ্রম আদালত স্থাপনসহ কুষ্টিয়া চিনিকল, মোহিনী মিল ও বন্ধ মিল কলকারখানা চালুর দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলুন। শ্রমিক অঙ্গন থেকে দালাল-সুবিধাবাদী নেতৃত্ব উচ্ছেদ করে সৎ, সংগ্রামী ও শ্রেণী সচেতন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করুন এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ১৪১তম মহান মে দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা শাখা আলোচনা সভার আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কুষ্টিয়া জেলা কমিটির আহবায়ক এস এম সোলায়মান পারভেজ। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, জাতীয় গনতান্ত্রিক ফ্রন্ট কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি মোক্তারুল ইসলাম মুক্তি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতীয় গনতান্ত্রিক ফ্রন্ট কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা আসাদুল হক আসাদ, কুষ্টিয়া স্বর্ণশিল্পী সমিতির সভাপতি পলান বিশ্বাস, বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি রমজান বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত মৃধা, ও
মজমপুর শাখা সাধারণ সম্পাদক রবিন খাঁ, কুষ্টিয়া ফার্নিচার শ্রমিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক আমানত শেখ রাইস মিল চাতাল শ্রমিক ইউনিয়ন এর নেতা তোরাপ আলী ব্যাপারি প্রমূখ। এতে সার্বিক সঞ্চালনা করেন, বাংলাদেশ হোটেল ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা যুগ্মআহ্বায়ক মৃত্যুঞ্জয় পাল। এছাড়া গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এসময় বক্তারা বলেন, এই দিনটি কেবল একটি দিবস নয়, এটি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক, আত্মত্যাগের ইতিহাস, এবং ন্যায়বিচারের জন্য অবিচল লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা।
বক্তারা বলেন, আমাদের শ্রমিকরা এখনো ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত, অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাব রয়েছে, শ্রম আইনের যথাযথ প্রয়োগ দেখা যায় না। শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বাসস্থানের বিষয়গুলোও এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বক্তারা আরো বলেন, শ্রমিকদের উন্নয়ন ছাড়া কোনো দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শ্রমিকই অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাই তাদের অধিকার নিশ্চিত করা মানে দেশের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা।
