নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া’র কর্তৃক সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার (২৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯ দিকে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত সংবাদ পাঠ করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, আমরা গভীর বেদনার সঙ্গে একটি অনভিপ্রেত ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে একত্রিত হয়েছি। ১৯২৯ সাল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে মাদ্রাসার শিক্ষা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের ন্যায্য দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনরত আলেম ও শিক্ষকগণের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। তালাবার পক্ষ থেকে আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
অথচ আজ ভাদের সম্মানহানি ও শারীরিক আঘাতের শিকার হতে হলো, যা শুধু অমানবিকই নয়, দেশে সর্বমোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজার ৫৬৫ টি। সরকারি ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা: ০০ টি। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা: ৬৮৪ টি। সরকারি দাখিল মাদ্রাসার সংখ্যা: ০০ টি। সরকারি আলিম মাদ্রাসার সংখ্যা: ০০ টি। সরকারি ফাজিল মাদ্রাসার সংখ্যা: ০০ টি। সরকারি স্নাতকোত্তর (কামিল) মাদ্রাসার সংখ্যা: ০৩ টি। সরকারি কলেজের সংখ্যা: ৬৪৯ টি। এতে প্রতিয়মান হয় যে, বৈষম্যের ভয়াল জিঞ্জিরে আবদ্ধ রয়েছে ইবতেদায়ী সহ সকল মাদ্রাসা। স্বাধীনতার পর থেকে সচেতন মহল ও বাংলাদেশ অমিয়তে তালাব্যয়ে আরাবিয়া এই জাতীয়করণের দাবী জানিয়ে আসছে। সরকার পাল্টিয়েছে, দল পাল্টিয়েছে কিন্তু বারংবার আশাহত হয়েছি আমরা।
জুলাই অভ্যস্থানে স্বৈরতন্ত্রের পতনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার নবদার উন্মেচিত হলেও উন্মোচন হয়নি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার উন্মেষ পর্ব। পূর্বের মতো এই সরকারের আমলেও নিগৃহিত হতে হয়েছে আলেম সমাজকে। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার চাই এবং ‘বাংলাদেশ জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়া’র পক্ষ থেকে ইবতেদায়ী জাতীয়করনের ৬ দফার সাথে একামত ও সংহতি প্রকাশ করছি। ৬ দফা সমূহ হলো: ১. রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে জাতীয়করণ। ২. শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিসহ সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান। ৩. রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত কোডবিহীন মাদ্রাসাগুলোকে কোড প্রদান। ৪. শিক্ষকদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা। ৫. চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করে মাদ্রাসাগুলোকে স্থায়ী রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা। ৬. ভৌত অবকাঠামো নিশ্চিত করা। আমরা আশাবাদী যে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ইবতেদায়ী জাতীয়করনের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবী বাস্তবায়ন করবেন। নাহলে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবো।
