নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার এক দম্পতির বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স বদলি বাণিজ্যে ৭ কোটি টাকার অধিক ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নার্সদের কাছ থেকে ঘুষের টাকা গ্রহণ করতেন জামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। ৫ ব্যাংকের ১৪টি হিসাবের মাধ্যমে এ টাকা গ্রহণ করা হতো। এরপরই নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের এক বা একাধিক কর্মকর্তার সহায়তায় জামাল উদ্দিন নার্সদের পছন্দের কর্মস্থলে বদলি করতেন। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর আগে জামাল উদ্দিন ও তার স্ত্রী শাকিরন নেছার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয় কমিশন। ঘুষের এসব টাকা থেকে সরকারি কর্মকর্তারাও ভাগ পেয়েছেন কী না, নার্সরা ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন, নাকি যোগসাজশ রয়েছে সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছে দুদক।
এ মামলায় দ্রুত চার্জশিট প্রদান করা হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে। জামাল উদ্দিন জেলার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের দুধকুমড়া গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে। সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর একটি হেলথ ফুড প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধির চাকরি করতেন জামাল উদ্দিন। যাতায়াত ছিল নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে। সেই সুযোগে সেখানকার কর্মচারীদের সঙ্গে গড়ে ওঠে সখ্যতা। তখন থেকেই শুরু করেন দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স বদলি। এই সুযোগে নার্সদের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে হাতিয়ে নেন ৭ কোটি ২৩ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। জামাল উদ্দিনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বলেন, জামাল আমার কাজিন। উচ্চ আদালত থেকে তিনি (জামাল) জামিনে আছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনুসন্ধান প্রতিবেদনে প্রমাণ মেলায় দুদক মামলা করেছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। চার্জশিট এখনো দেয়া হয়নি।
