কুষ্টিয়ায় ফাঁদে ফেলে অধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় ফাঁদে ফেলে অধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ২৪, ২০২৪

অভিযোগ বিশ্বাস হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া মজমপুর বাস স্ট্যান্ড ঝিনাইদহ মহাসড়ক সংলগ্ন কুষ্টিয়া স্টোর তেল পাম্পের সামনে বিশ্বাস হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে ঘুঘু ফাঁদে ফেলিয়ে কাস্টমারদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে অধিক টাকা। হোটেলের কর্মচারী এবং মালিকের অসাধারণ কুটকৌশল এর কাছে বড়ই অসহায় হোটেলে খেতে আসা কাস্টমার। বিশ্বাস হোটেলে খেতে বসে খাবারের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক কাস্টমার। গত ১৯ শে মে রহিম, হাসান ও রাগিব ( ছদ্মনাম) বিশ্বাস হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে দুপুর তিনটায় খাবার খেতে যায়। আমার খাওয়ার পূর্বে রাগিব মূল্য তালিকা দেখে নেয় এবং মূল্য তালিকায় উল্লেখিত গরুর মাংসের দাম প্রতি পেলেট ১৬০ টাকা দেখে ওয়েটার কে জিজ্ঞাসা করেন এর অর্ধেক দেওয়া যায় কিনা? ওয়েটার বলেন, দেওয়া যাবে ১০০ টাকা হাফ বাটি। কথা অনুযায়ী হাফ গরুর মাংস ১.১/২ ভাত ও ১/২ বাটি ডাল দিয়ে খাবার খান। খাওয়ার শেষে বিল দেওয়ার সময় দেখা যায়, একজনের বিল ৩৭০ টাকা হয়েছে। বিল শুনে কাস্টমারের চোখ কপালে উঠে যায়। তখন কাস্টমার হোটেলের কাউন্টারে থাকা ম্যানেজারকে বলেন যে এত বিল কেন হয়েছে। রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার ওয়েটারকে ডাক দেয় এবং বলে বিল বুঝিয়ে দেন। ওয়েটার ম্যানেজারের সাথে ইশারা ইঙ্গিতে কিছু একটা বলাবলি করে বলেন, যে ফুল বাটি গরুর মাংস ৬২০ টাকা হাফ বাটি মাংস ৩১০ টাকা। তখন কাস্টমার মূল্য তালিকার কথা বললে ওয়েটার বলেন এখানে যারা খায় তারা জানে, মূল্য তালিকা দেখে লাভ কি? তাহলে হোটেল রেস্টুরেন্টগুলোতে মূল্য তালিকা দেওয়ার উদ্দেশ্য কি? রেস্টুরেন্টের বাহিরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান এই হোটেলে খাবার পর প্রায়ই এভাবে মনগড়া বিল তৈরি করে। বিভিন্ন দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই ব্যস্ততম জায়গাতে খেতে বসেন অনেকেই। খাবার পর এ ধরনের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হচ্ছেন অনেক কাস্টমার প্রতিনিয়ত এমনটিই অভিযোগ পাওয়া যায়। বিল নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে যে কোন সময় ঘটতে পারে অস্বাভাবিক ঘটনা। ঝগড়া হাতা হাতি এমন কি মারামারিতেও রূপ নিতে পারে বলে, ভয়ে অনেকেই চুপচাপ নিজের সম্মান বজায় রেখে বাড়তি বিল দিয়ে চলে যায়। এছাড়াও শত শত যাত্রী প্রতিদিন কুষ্টিয়া – ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াত করেন এই মজমপুর গেট থেকে। তাদের অধিকাংশই বাসে উঠার পূর্বে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে আগত যাত্রীরা নামার পর হোটেলগুলোতে খাবার খান। খাবার পর বাধ্য হয়ে বেশি বেশি টাকা দিয়ে চলে যান। তবে কুষ্টিয়া শহরের অনেকগুলো হোটেল রেস্তোরা আছে এই ধরনের কর্মকাণ্ড অন্য কোন রেস্তোরাঁতে নেই বললেই চলে। খাবারের মূল্য ছাড়াও দিগুন টাকা। কোনও কোনও খাবারের দাম তিনগুণও রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বছরের পর বছর কাস্টমার ও যাত্রীদের পকেট কাটছেন বিশ্বাস হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট। এর কোনও প্রতিকার নেই। কেন প্রতিকার আছে কিনা? তাও জানা নেই কাস্টমার ও যাত্রীদের। সাধারণ মানুষদের গুনগুন আছে এ সমস্ত হোটেলের সঙ্গে বাস মালিকদের ও ড্রাইভার হেল্পারদের কমিশন চুক্তি থাকে। কমিশনের টাকা দিতেই এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পাতেন বলে শোনা যায়। অনেক দরিদ্র সাধারণ ও অশিক্ষিত মানুষও এ সমস্ত হোটেল বা রেস্টুরেন্টে খেতে বসেন। খাবার শেষে কোন কোন মানুষ তার পকেটের সর্বস্ব টা দিয়েও কুল পাই না। এ ধরনের অনিয়ম এবং অত্যাচার স্বরূপ চলতে থাকলে সাধারণ জনগণ সরকার ও সরকারের আইনের প্রতি ঘৃণিত মনোভাব পোষণ করবেন। একই লাইনে হোটেল থাকার পরেও এক হোটেলের খাবারের দামের সঙ্গে অন্য হোটেলের দামের কোনও মিল নেই। যে যার মত পাডরছে কাস্টমারের কাছ থেকে লুটে খাওয়ার চেষ্টা করছে। হোটেলগুলোর খাবারের দাম নিয়ে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কোনও ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না হোটেল মালিকরা। তদারকি নেই জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকারের। সার্বিক বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল বলেন, কোথাও নির্ধারিত দামের বেশি নিলে আমর অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। যদি কোথাও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন হয়, সেক্ষেত্রে ভোক্তারা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নিই আমরা। সচেতন মহলের দাবি এ বিষয়ে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে আইন প্রণয়ন করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে জনস্বার্থ হুমকি সম্মুখীন হতে পারে।