বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নতুন বছরের প্রথম দিনেই কুষ্টিয়ার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হাতে পেয়েছে তাদের পাঠ্যবই। দীর্ঘদিন ধরে বই বিতরণে বিলম্ব নিয়ে অভিযোগ থাকলেও এবার প্রাথমিক পর্যায়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সময়মতো নতুন বই পাওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে। তবে মাধ্যমিক স্তরে এখনো সব পাঠ্যবই না পৌঁছানোয় শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া জেলার প্রাথমিক স্তরে শতভাগ পাঠ্যবই বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রাথমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম বলেন, “এ বছর পরিকল্পিতভাবে আগেই বই সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে নতুন বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।” আগামীতেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে বই সংকট পুরোপুরি কাটেনি। কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবু তৈয়ব মো. ইউনুছ আলী জানান, ষষ্ঠ, অষ্টম ও নবম শ্রেণির পাঠ্যবই আংশিকভাবে জেলায় পৌঁছেছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী দুই বা তিনটি বই পেলেও সম্পূর্ণ সেট এখনো হাতে পায়নি।
তিনি বলেন, “বই ছাপা ও সরবরাহের প্রক্রিয়ার কারণে কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যবই পৌঁছে যাবে।” কুষ্টিয়া জেলা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়েদ জানায়, নতুন বছরের প্রথম দিনেই সব বই পাওয়ার আশা ছিল তার। কিন্তু শিক্ষকদের কাছ থেকে জানতে পেরেছে, পুরো বই পেতে জানুয়ারি মাসজুড়েই অপেক্ষা করতে হতে পারে। এতে নিয়মিত পাঠ কার্যক্রম শুরু করতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে বলেও সে জানায়। তবে একই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তায়েপ আহসান নতুন বই পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তার ভাষায়, সময়মতো বই পাওয়ায় পড়াশোনার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হচ্ছে এবং নতুন বছরের শুরুতেই আগ্রহ নিয়ে পড়ালেখা শুরু করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে কুষ্টিয়া হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. রাজ অভিযোগ করে জানায়, সে এখনো সব বই পায়নি। এখন পর্যন্ত মাত্র তিনটি বই হাতে পেয়েছে। শিক্ষকরা তাকে আশ্বস্ত করেছেন, চলতি মাসের মধ্যেই বাকি বইগুলো দেওয়া হবে। এ বিষয়ে অভিভাবক মহুয়া খাতুন বলেন, বই না থাকলে স্কুল খোলা থাকলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতি বছরই যেন জানুয়ারির শুরুতেই সব স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া হয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই মাধ্যমিক স্তরের বই সংকট কাটিয়ে উঠবে।
