কুষ্টিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডার সহিংসতা রোধে পরামর্শ সভা - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডার সহিংসতা রোধে পরামর্শ সভা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ডিজিটাল রূপান্তরের এই সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহারে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুরা অনলাইন হয়রানি, সাইবার বুলিং, ডক্সিং ও সাইবার স্টকিংয়ের মতো অপরাধের শিকার হচ্ছেন বেশি। টহরঃবফ ঘধঃরড়হং চড়ঢ়ঁষধঃরড়হ ঋঁহফ (ইউএনএফপিএ)-এর তথ্যমতে, বিশ্বে প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে দুইজন কোনো না কোনোভাবে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার শিকার হন; বাংলাদেশে এ হার ৮৯ শতাংশ। এই প্রেক্ষাপটে কুষ্টিয়ায় প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (টিএফজিবিভি) প্রতিরোধে আইনি সহায়তা বিষয়ক এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেতু’র সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও এন্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) ও সেতু। জেলা পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি আইনি সহায়তা কার্যক্রমে টিএফজিবিভি ইস্যু একীভূত করা, রেফারেল ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য সহজলভ্য আইনি সেবা নিশ্চিত করাই ছিল সভার মূল লক্ষ্য। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার সিনিয়র সিভিল জজ ও লিগ্যাল এইড অফিসার মো. তারিক হাসান। তিনি বলেন, দেশে মোবাইল ফোনের ব্যবহার ব্যাপক হলেও অধিকাংশ মানুষ স্মার্টফোনের নিরাপদ ও সচেতন ব্যবহার সম্পর্কে অবগত নন। ফলে প্রতারণা, তথ্যচুরি ও সাইবার সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে।

কিশোর-যুবকদের মধ্যে অনলাইন জুয়া ও আসক্তিমূলক গেমের বিস্তার পরিবার ও সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, সাইবার বুলিং, ফোন হ্যাকিং, অনলাইন যৌন হয়রানি বা হুমকির শিকার হলে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ বা আদালতে মামলা করতে পারেন। মামলা গ্রহণে জটিলতা দেখা দিলে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিনা খরচে আইনি সহায়তা পাওয়া সম্ভব। প্রযুক্তিকে পরিহার নয়, বরং নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই সময়ের দাবি এমন মন্তব্যও করেন তিনি। অনুষ্ঠানে আইনজীবী, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সদস্য, মানবাধিকার কর্মী, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও যুব প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা টিএফজিবিভি প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন স্টেকহোল্ডার যেমন আইএসপি, কেবল নেটওয়ার্ক প্রতিনিধি ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এজেন্টদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথিরা জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে সরকারের ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ হেল্পলাইন (০১৩২০-০০০৮৮৮) ব্যবহারের আহ্বান জানান। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, এনজিও ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধ করে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, অল্প বয়সে শিশু-কিশোরদের হাতে অনিয়ন্ত্রিত স্মার্টফোন ব্যবহার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাই পরিবার থেকেই সচেতনতা শুরু করতে হবে। একই সঙ্গে হটলাইন ও আইনি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ও জনবান্ধব করার তাগিদ দেওয়া হয়। প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।