কুষ্টিয়ায় প্রকল্পের বয়স ৬ মাস পেরিয়ে গেল এখনো শুরু হয়নি বাঁধের কাজ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় প্রকল্পের বয়স ৬ মাস পেরিয়ে গেল এখনো শুরু হয়নি বাঁধের কাজ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ১৯, ২০২৪

আমরা ত্রাণ চাই না-দ্রুত বাঁধ চাই

রঞ্জুউর রহমান ॥ গতকাল বছর একনেকে পাস হওয়া কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া, বহলবাড়িয়া ও বারুইপাড়া ইউনিয়নে ৯ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ  প্রকল্পের ৬ মাস পেরিয়ে গেল এখনো বাঁধের কাজ শুরু হয়নি। প্রতিবছর মিরপুর উপজেলার তিন ইউনিয়নের পদ্মা নদীতে পানি বাড়লে অকালবন্যা হয়। এতে পদ্মাপারের বহালবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহেবনগর, খাদেমপুর; তালবাড়িয়া ইউনিয়নের রানাখড়িয়া এবং বারুইপাড়া ইউনিয়নের মির্জানগরসহ আশপাশের সহস্রাধিক মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে যায়। প্রতিবছর বাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ কারণে এলাকাবাসীর দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে পদ্মা নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল।স্থানীয়দের জানান, এবার বর্ষা মৌসুমে পূর্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু না হয় তাহলে তাদের অবশিষ্ট্য ফসলি জমি আর থাকবে না। বহলবাড়িয়া তালবাড়িয়া ও বারুইপাড়া এই তিন ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কৃষি উপর নির্ভরশীল।

প্রতিবছর পদ্মা নদীর অববাহিকায় ফসলি জমি থেকে এই অঞ্চলের মানুষ বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য ধান, গম, পাট উৎপাদন করে।কিন্তু নদী ভাঙ্গনের ফলে কিন্তু নদী ভাঙ্গনে এই তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কৃষি জমি হারালে রাস্তায় বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। স্থানীয়দের দাবি অতি দ্রুত স্থায়ী বাঁধ  কাজ শুরু করা হোক। নওদা খাদিমপুর বাসিন্দা মোঃ সবুজ  বলেন, আমাদের পরিবার কৃষির উপর নির্ভরশীল। আমার বাবা ও আমরা কৃষি কাজ করে খাই মাঠে যেটুকু জমি ছিলো তা প্রায় সব নদী ভাঙ্গনে হারিয়ে গেছে অবশিষ্ট্য যেটুকো জমি আছে সেখান থেকে ধান দিয়ে আমাদের পরিবারের সারা বছর চলে। এখন যদি আমাদের সেই অবশিষ্ট্য জমি ভেঙে যায় তাহলে আমাদের পথে বসা ছাড়া আর কোন রাস্তা থাকবে না। তাই আমরা চাই দ্রুত এই বাঁধ  নির্মাণের কাজ শুরু হোক এবং আমাদের ফসলী জমি রক্ষা হোক। বারুপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোঃ রেজাউল করিম বলেন এবার বর্ষা মৌসুমের আগে যদি বাধ নির্মাণ না করা হয় তাহলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। আমাদের অবশিষ্ট চাষাবাদী জমি  আর থাকবে না। তাই আমরা চাই অতি দ্রুত এই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হোক। বহলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম খান (মানিক) বলেন, আমাদের এমপি মহোদয় কৃষক এবং কৃষির যে কোন বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। আমাদের এমপি মহোদয় এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যেন বর্ষা মৌসুমের আগে এই বাধ নির্মাণের কাজ শুরু করা যায়। আমরা আশাবাদী খুব দ্রুত এই বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাশিদুর রহমান সাথে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন নাই।