কুষ্টিয়ায় পৌরসভার রাস্তা ভেঙে ভবন নির্মাণে পাইলিংয়ের অভিযোগ - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় পৌরসভার রাস্তা ভেঙে ভবন নির্মাণে পাইলিংয়ের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মার্চ ১৩, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কালিশংকরপুর এলাকায় সোনার বাংলা সড়কের পাশে পৌরসভার রাস্তা ভেঙে ভবন নির্মাণের জন্য পাইলিং করার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালিশংকরপুর এলাকার সোনার বাংলা সড়কের পাশে একটি ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেছেন শরিফুল ইসলাম। ভবনের পাইলিংয়ের জন্য বাড়ির সামনের পৌরসভার রাস্তার একটি অংশ ভেঙে গভীর গর্ত খনন করা হয়েছে। সেখানে শ্রমিকরা নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

গর্তের চারপাশে অস্থায়ীভাবে প্লাস্টিক দিয়ে ঘেরাও করা হলেও তা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের একেবারে পাশেই এভাবে গভীর গর্ত খনন করায় পথচারী ও যানবাহনের চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এলাকাবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্কদের চলাচলে বেশি সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমরান বলেন, “রাস্তা তো সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য। ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণের জন্য যদি এভাবে রাস্তা খনন করা হয়, তাহলে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। কাজ করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া উচিত এবং রাস্তার কোনো ক্ষতি করা ঠিক নয়।” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বলেন, “রাস্তা জনগণের সম্পদ। ব্যক্তিগত স্বার্থে যদি রাস্তা ভেঙে ফেলা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে। বিষয়টি দ্রুত বন্ধ করা দরকার।” আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সরকারি বা পৌরসভার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী পৌরসভার সড়ক, ড্রেন বা অবকাঠামো নষ্ট করা কিংবা অনুমতি ছাড়া খনন করা নিষিদ্ধ। এ ধরনের কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম. সাইফুল্লাহ বলেন, “এ বিষয়ে আমার কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই। আমি বর্তমানে ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পথে আছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।” তবে এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।