বিশেষ প্রতিনিধি ॥ উর্বর মাটি আর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পেঁয়াজ চাষে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া। এবার এই জেলায় বড় পরিসরে পেঁয়াজের বীজ আবাদ করে আলোচনায় এসেছেন কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুল ইসলাম। তিনি জেলার কুষ্টিয়া সদর উপজেলা এ ২৮ বিঘা এবং কুমারখালী উপজেলাসহ উত্তরাঞ্চলে আরও ১৭ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ চাষ করেছেন। মোট ৪৫ বিঘা জমিতে বিস্তৃত এই ক্ষেত এখন স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও আগ্রহ তৈরি করেছে। সরেজমিনে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাড়াদি এলাকার মাঠে গিয়ে দেখা যায় নারী শ্রমিকরা পেঁয়াজ ফুলে পরাগায়নে ব্যস্ত।
সারিবদ্ধভাবে সবাই একদিক থেকে আরেকদিকে ফুলের পরাগায়নের মাধ্যমে তাদের কার্য সম্পাদন করছেন। কুমারখালী উপজেলার পাহাড়পর এলাকার প্রবীণ এক কৃষক মুক্তার হোসেন জানান, পেঁয়াজ চাষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ফুলে পরাগায়ন। আগে পেঁয়াজ ক্ষেতে দেখা যেত মৌমাছি ও বিভিন্ন উপকারী পোকামাকড়ের ব্যস্ততা। পেঁয়াজ গাছ ফুল ধরার পর মৌমাছিরা ফুলে বসে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি এক ফুল থেকে অন্য ফুলে পরাগ স্থানান্তর করতো, যার মাধ্যমে পরাগায়ন সম্পন্ন হতো। তবে এখন মাঠে অতিরিক্ত সার কীটনাশক ব্যবহারের ফলে আর মৌমাছি বসে না তাই হাত দিয়েই প্রাকৃতিকভাবে পরাগায়ন করতে হচ্ছে।
পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন তুলনামূলকভাবে শ্রমনির্ভর হলেও সঠিক পরিচর্যা করলে ভালো লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়মিত সেচ, আগাছা দমন এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গাছগুলোকে সুস্থ রাখা হচ্ছে। মাঠজুড়ে এখন ফুটেছে পেঁয়াজের ফুল, যা ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পেঁয়াজ উৎপাদন করা উদ্যোক্তা মনিরুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, পেঁয়াজ বীজ কিনতে গিয়ে আমার মত অনেক চাষীদের গলদঘর্ম হতে হয়। একটা সময় যেই পেঁয়াজ বীজ এক দুই হাজার টাকা কেজি ছিল সেই পেঁয়াজ বীজের দাম বাড়তে বাড়তে ১০ হাজার ১৫ -২০ হাজার টাকার উর্ধ্বে কিনতে হয়েছে।
তাই আমরা কৃষকরা কিভাবে উৎপাদন করা যায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ সহ আমি বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এবং বীজ উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে চাষীদের পরামর্শ গ্রহণ এবং হাতে-কলমে শিখে এসেছি। তিনি বলেন, আমি প্রথমে ১০ শতক জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করি আস্তে আস্তে বাড়তে বাড়তে গেলো বছরের ৪০ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করেছি। এ বছরে পেঁয়াজ আমাদের পাশাপাশি ৪৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করার জন্য আপ্রন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। “আমরা উন্নত জাতের পেঁয়াজ দিয়ে বীজ উৎপাদন করছি।
আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।” কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুল ইসলামের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমেই কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুমেই মনিরুল ইসলামের এই উদ্যোগ কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তার সফলতা অন্য কৃষকদেরও এ পথে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র জানিয়েছে, জেলায় ৬২ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে। এতে করে আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছি। কৃষিতে নতুন উদ্যোগ আর সফলতার গল্পই বদলে দিতে পারে গ্রামীণ অর্থনীতি—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
