বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এবং বিদ্যমান আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি সংক্রান্তে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনসাধারনের সাথে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া রাইফেল ক্লাব চত্বরে মডেল থানার আয়োজনে গণভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের উদ্যোগে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন পিপিএম (বার)। এতে গন্যমান্য ব্যক্তিদ্বয়ের মধ্যে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার।
কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজাসহ অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার হাসান ইমাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) ফয়সাল মাহমুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, অফিসার ইনচার্জ, কুষ্টিয়া মডেল থানা ও ইবি থানাসহ জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। এসময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, অস্ত্র ও চোরা কারবারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এছাড়া আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পুলিশ সুপার মহোদয় সকলের সহযোগীতা কামনা করেন। তিনি আরো বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে, ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, নাশকতা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। মতবিনিময়ে জেলা বিএনপি সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে ধানের শীষের কান্ডারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। জনগণ যেন নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এটাই আমাদের সবার প্রত্যাশা। এ ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা বিশ্বাস করি, পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করবে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী।
আমরা কোনো সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমাদের প্রত্যাশা নির্বাচনী সময়ে সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা যেন সমান সুযোগ পায়, সভা-সমাবেশ করতে পারে এবং হয়রানি বা ভয়ভীতি ছাড়াই জনগণের কাছে যেতে পারে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ সময় অন্যান্য বক্তারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়। সভা শেষে পুলিশ সুপার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পেশাদার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেলায় একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
