কুষ্টিয়ায় পুলিশের সাথে প্রতারণা করে ভূয়া জজ আটক - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় পুলিশের সাথে প্রতারণা করে ভূয়া জজ আটক

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ১১, ২০২৩
কুষ্টিয়ায় পুলিশের সাথে প্রতারণা করে ভূয়া জজ আটক

কুষ্টিয়ায় পুলিশের সাথে প্রতারণার অভিযোগে ভূয়া জজ আবু বকর সিদ্দিক (২১) নামের এক যুবককে আটক করেছে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ। বৃহঃবার (৯ নভেম্বর) রাতে জগতি রেল স্টেশন বাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

কুষ্টিয়ায় পুলিশের সাথে প্রতারণা করে ভূয়া জজ আটক

কুষ্টিয়ায় পুলিশের সাথে প্রতারণা করে ভূয়া জজ আটক

কুষ্টিয়ায় পুলিশের সাথে প্রতারণা করে ভূয়া জজ আটক

আটককৃত আবু বকর সিদ্দিক রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার পূর্ব বাগদোল এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে। এই ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের এস আই (নিরস্ত্র) আব্দুল কাদের বাদী হয়ে মডেল থানায় একটি প্রতারনামূলক মামলা দায়ের করেছেন।

google news

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২২ আগষ্ট রাতের দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার এস আই (নিরস্ত্র) আব্দুল কাদের ও তার সঙ্গীয় ফোর্সসহ রাতে কালিশংকরপুর কাটাইখানা মোড় এলাকায় ডিউটি করা সময়ে এ এস আই (নিরস্ত্র) মিজানুর রহমানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ফোন করে জানায় ঢাকা থেকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মমিনুল হক নামে একজন ব্যক্তি তার সাথে কথা বলবে, বাদী আব্দুল কাদের মমিনুল হক’কে মুঠোফোন দিলে তিনি বলেন সে একজন বিচারক এবং বর্তমানে ঢাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার কার্যক্রম করছেন। রাত অনেক হওয়ায় তাকে সাহায্য করতে বলেন এই ভূয়া বিচারক।

ভূয়া বিচারক বাদী এস আই (নিরস্ত্র) আব্দুল কাদেরকে বলেন “কুষ্টিয়া পাসপোর্ট অফিসের গিয়ে দায়িত্বরত নাইট গার্ড অথবা যে কোন লোকের সাথে তার কথা বলিয়ে দিতে হবে। এরপর বাদী রাত ০১.০০ টার সময় কুষ্টিয়া পাসপোর্ট অফিসের গিয়ে দায়িত্বরত একজন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যকে পেয়ে তার সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে দেন। তখন উক্ত আনসার সদস্য অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকা’র পরিচয় জেনে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক এর অফিসের দোতলায় থাকার রুমে গিয়ে সহকারী পরিচালকে ডাকেন। তার কিছুক্ষনপর আনসার সদস্য নিচে এসে বাদীকে জানান, স্যার তার ডাকে সাড়া দেন নি এবং দরজাও খোলেননি। এমন সময় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকা’র পরিচয়ের ব্যক্তিকে বিষয়টি জানায়।

তারপর সে বাদীকে জানায়, পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক এর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে দেন। পাসপোর্ট অফিসের গেটের বোর্ড হতে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক এর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকা পরিচয়ের ব্যক্তিকে দিয়ে সঙ্গীয় ফোর্স সহ চলে আসেন। পরবর্তীতে ঘটনার একমাস পর পুলিশ সুপারের কার্যালয় হতে বাদী জানতে পারেন কুষ্টিয়া পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক কুষ্টিয়া পাসপোর্ট অফিসে পুলিশ যাওয়ার কারন উল্লেখ করে বাদীর নামে ঢাকা পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন, হেডকোয়ার্টার্স এ অভিযোগ করেন এবং উক্ত অফিস পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকায় প্রেরণ করেন।

পরবর্তীত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা উক্ত অভিযোগটি তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয় প্রেরণ করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাদীকে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য ডাকেন এবং বাদী ২০২৩ সালের ২২ আগষ্ট রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বর্ণনা দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশ মোতাবেক ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক পরিচয়দানকারী ব্যক্তিকে খোঁজার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আশিকুজ্জামান বলেন রাজবাড়ী, যশোর, কুষ্টিয়া সহ বিভিন্ন জেলা ও থানা পর্যায়ে নিজের নাম গোপন করে মিথ্যা নাম ও জজ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছেন। এ বিষয়ে তার নামে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তিনি জানান।