বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলা এর আড়পাড়া গ্রাম, যা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা এলাকার অন্তর্ভুক্ত সেখানে পুকুর সংস্কারের নামে চলছে অবাধে মাটি কাটার মহা উৎসব। অভিযোগ উঠেছে, পুকুর সংস্কারের আড়ালে একরের পর একর জমি কেটে সেই মাটি পার্শ্ববর্তী ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় ঢুকলেই দেখা যায় বড় বড় গর্ত এবং সদ্য খনন করা পুকুরের সারি। অনেক ক্ষেত্রে পুকুর খননের অজুহাতে আশপাশের ফসলি জমিও কেটে ফেলা হয়েছে। এতে কৃষিজমি ও পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য ছোট ছোট ক্যানেল ছিল। কিন্তু এখন সেই ক্যানেলগুলো মাটি ফেলে ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মাটি কাটার ফলে আশপাশের অনেক বসতবাড়িও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তারা একাধিকবার পুকুর মালিকদের এ কাজ বন্ধ করতে বললেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পুকুর মালিকদের একজন হাজী শাহাদাতের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পুকুর সংস্কারের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন।
তবে তিনি এখনো কোনো অনুমোদন পাননি। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছেও অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু অনুমতি না পাওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে পুকুরে মাটি কাটার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং সেই মাটি ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন শত শত গাড়ি মাটি এলাকা থেকে ইটভাটায় যাচ্ছে। বাংলাদেশে অনুমতি ছাড়া মাটি কাটা এবং বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ বিষয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ প্রযোজ্য। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো স্থান থেকে মাটি উত্তোলন করা যাবে না।
কৃষিজমি বা পরিবেশের ক্ষতি করে মাটি কাটা নিষিদ্ধ। পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রি করে বাণিজ্য করা আইনত অপরাধ। বিশেষ করে ইটভাটায় কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করা আইন দ্বারা নিষিদ্ধ। আইন অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে, সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড (কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত), অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া অবৈধ মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক, ট্রলি ও খননযন্ত্র জব্দ করার ক্ষমতা প্রশাসনের রয়েছে।
প্রশাসনের নীরবতায় প্রশ্ন স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে অনুমতি ছাড়া মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হলেও এখনো কেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এদিকে কৃষক ও সাধারণ মানুষ দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ না করলে কৃষিজমি, পরিবেশ ও বসতবাড়ির মারাত্মক ক্ষতি হবে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মোঃ রোকনুজ্জামান বলেন, নিজের পুকুরে পুকুর সংস্কার করতে পারবে কিন্তু সংস্কারের নামে ভাটায় মাটি বিক্রি সম্পূর্ণ অপরাধ এবং এটার প্রমাণ পেলে যথাযথ আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুকুর সংস্কারের নামে এখানে আসলে চলছে মাটির ব্যবসা। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা ধ্বংস হয়ে যাবে।
