রঞ্জুউর রহমান \\ ”বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ স্মার্ট পাট শিল্প বাংলাদেশ ২০২৪”এই প্রতিপাদ্য নিয়ে সারা বাংলাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়াতেও জাতীয় পার্টি দিবস পালন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৬ মার্চ) সকাল দশটায় জেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তর কুষ্টিয়া আয়োজনে কুষ্টিয়া কালেক্টরেট চত্বর র্যালি বার্নাঢ্য অনুষ্ঠিত হয়। র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা, প্রবাসী কল্যাণ শাখা) সৈয়দা আফিয়া মাসুমা এর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাসরিন বানু। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (অ.দা.) মোঃ কাওছার হোসেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ট্রেজারী ও স্ট্যাম্প শাখা এবং নেজারত শাখা) শাহেদ আরমান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা, প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখা) মোঃ রাহাতুল করিম মিজান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা, প্রবাসী কল্যাণ শাখা) সৈয়দা আফিয়া মাসুমা,সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ব্যবসা, বানিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা, রেকর্ডরুম শাখা) আদিত্য পাল, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (আইসিটি শাখা ও ই-সেবা কেন্দ্র) মোঃ তাফসীরুল হক মুন, জেলা পাট অধিদপ্তর মুখ্য পরিদর্শক মোঃ সোহরাব উদ্দিন বিশ্বাস এবং জেলা চেম্বার অব কমার্সের সদস্যবৃন্দ। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ পাটজাত পণ্যের গুরুত্ব ও আইন তুলে ধরে বলেন, পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ সৃষ্টি, পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি, পাট পণ্যের বাজার স¤প্রসারণসহ সোনালী আঁশ পাটের সম্ভাবনা তুলে ধারার লক্ষ্যে আমাদের বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং আইন প্রনয়ণ করেছেন। পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামুলক ব্যবহার আইন-২০১০ এবং বিধিমালা ২০১৩ প্রনয়ণ করেছেন। এ আইনের দ্বারা ধান, চাল, গম, ভুট্টা, সার, চিনি, মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডাল, ধনিয়া, আলু, আটা, ময়দা, তুষ-খুদ-কুড়া, পোল্ট্রি ফিড ও ফিস ফিডসহ ১৯ টি পণ্য মোড়কি করনে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছেন। এ আইন অমান্যকারীর শাস্তি অনাধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা অনাধিক ১ বছরের কারাদন্ড বা উভয় দন্ড। অত্র আইন প্রয়োগ ও বাস্তবায়নে পাট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগীতা করছেন বলেও তারা জানান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাসরিন বানু বলেন, সোনালি আঁশ পাটের সাথে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। শুধু তাই নয়, বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তির হাতিয়ার হিসেবে পাটের ভ‚মিকা স্বীকৃত ইতিহাস। পরিবেশবান্ধব তন্তু হিসেবে পাটের গুরুত্ব বিবেচনায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পাট ও পাটপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে সোনালি আঁশের উজ্জ্বল সম্ভাবনা কথা বলেন। এবারের জাতীয় পাট দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ স্মার্ট পাট শিল্প বাংলাদেশ, তাই আমাদের এই পাটজাত পণ্যকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে।
