কুষ্টিয়ায় নাসির হত্যার বিচার মেলেনি পরিবারের - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় নাসির হত্যার বিচার মেলেনি পরিবারের

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ৯, ২০২৪

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বিশ্বাসের (৪৯) হত্যার মামলার এজাহার নিয়েছিলনা কুমারখালী থানা পুলিশ, ১১ দিন পর আদালতের নির্দেশে মামলা নিয়েছিলো কুমারখালী থানা। কুমারখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় এই মামলা রুজু করা হয়েছিলো।

কুষ্টিয়ায় নাসির হত্যার বিচার মেলেনি পরিবারের

মামলার আসামিরা হলেন, কুমারখালী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল হোসেন, মো. আফজাল হোসেন, মো. মুক্তার হোসেন, মো. হাবিবুর রহমান, মো. আলম কাজী ও হাবিবুর রহমান হান্নান। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই ২০২১ সালে কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের নাউথী গ্রামের ব্যবসায়ী ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নাসির উদ্দিন রাত ৯টার দিকে শিলাইদহ থেকে কুষ্টিয়ায় যাওয়ার পথে সৈয়দ মাসুদ রুমি সেতুর ওপর পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা তাঁকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ফেলে রেখে গিয়েছিলো। পরে পথচারীর মোবাইল ফোন পেয়ে নাসিরের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছিলো, নাসিরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় মুমূর্ষু অবস্থায় তিনি জানান মামলায় উল্লেখিত ব্যক্তিরা হত্যার উদ্দেশে তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছে। নিহত ব্যবসায়ীর ভাই ও মামলার বাদী মো. বশির উদ্দিন জানান, ১৫ জুলাই ২০২১ সালে কুমারখালী থানায় আসামিদের নাম উল্লেখ করে এজাহার জমা দিলে থানা মামলা না নিয়ে ফেরত দেয়। পরদিন ১৮ জুলাই আদালতে মামলা করেন তাঁরা। আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা রুজু করেন কুমারখালী থানা পুলিশ। কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার সে সময় জানিয়ে ছিলেন আদালতের নির্দেশে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বশির উদ্দিন জানান, আমি যখন সে সময় আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে যায় তখন কুমারখালী থানার সাবেক ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার আমার মামলা নিয়েছিলো না। কুমারখালীর এমপি সেলিম আলতাফ জর্জের খুব কাছের লোক ছিলেন অভিযুক্ত আসামিরা। আমি আদালতে মামলা করার পরে আদালতের থেকে নির্দেশে দেন কুমারখালী থানায় মামলা নেয়ার জন্য এবং পরবর্তীতে আমি লিখিত এজাহার জমা দিলে ২৪/০৭/২০২১ তারিখে ১৮৬০ পেনাল কোড, ৩০২/৩৪ ধারাই মামলা হয়।

এরপরে মামলা চলমান থাকার সময় আদালত মামলাটির তদন্ত করার জন্য পিবিআই কে দিয়েছিলেন এবং তদন্ত করে সব রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এই মামলার সাজা থেকে আসামিদের বাঁচার কোন সুযোগ নেই বলে আমাকে জানিয়ে ছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে অদৃশ্য শক্তি ও প্রভাব খাটানোর কারণে এই মামলা থেকে পিবিআই তাদেরকে অব্যাহত দিয়ে দেই। আমি আদালতের মাধ্যমে তদন্তটা আবার পুনরায় না দিয়ে সিআইডিতে নিয়ে আসি কিন্তু সেখানেও আমার সাথে একই ব্যবহার করে সিআইডি, অভিযুক্ত আসামিদের আবারো অব্যাহত দিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে সিআইডি আমার সাথে প্রথম থেকে কোনরকম যোগাযোগ করেন নাই। আমি একজন বাদী এই ব্যাপারে সিআইডি ওসি হারুন আমাকে কিছু না বলে তিনি পোস্টিং হয়ে চলে যান। পরে একজন এস আই এসে আমাকে বলেন আপনি এই কাগজের সই করেন আমি এক পর্যায়ে সই না করলে আমাকে চাপ সৃষ্টি করে সই করিয়ে নেন এবং বলেন স্যার চলে গেছেন এটা আমার দায়িত্ব ছিল তাই আমি আমার দায়িত্ব করেছি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার তৎকালীন সিআইডির ওসি হারুনের সাথে কথা হলে তিনি জানান,আমি সেই সময়ই তেমন কিছু তদন্ত করে পাই নাই ভালো করে তদন্ত করার আগে আমার অন্য জেলায় পোস্টিং হয়ে যায়।