কুষ্টিয়ায় ডিবি পুলিশের অভিযান ঘিরে বিতর্ক - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় ডিবি পুলিশের অভিযান ঘিরে বিতর্ক

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: এপ্রিল ২২, ২০২৬

অর্থের বিনিময়ে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ 

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা এলাকায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এক অভিযানে পাঁচজনকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার পেছনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে আইলচারা ইউনিয়নের রশিদ এগ্রো ফুড কারখানা সংলগ্ন এলাকায় আমিরুলের অফিসে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ।

এসময় আমিরুল সহ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, বল্লভপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মৃত ফেলা মোল্লার ছেলে আসাদুজ্জামান মিলন (মিলন মোল্লা), একই গ্রামের পবন, আইলচারা গ্রামের আমিনউদ্দিন, বল্লভপুর গ্রামের আমিরুল এবং জুলু।

অভিযোগ রয়েছে, আটক পাঁচজনের মধ্যে আমিরুল ও জুলুকে পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তাদের কাছ থেকে ৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের একাংশ দাবি করেছেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রকৃতপক্ষে ১,৬০০ থেকে ১,৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল এবং প্রায় ৭ লাখ টাকার বিনিময়ে আমিরুল ও জুলুকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে পাঁচজনকে আটক এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ করার দৃশ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এসব ঘটনায় অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জুলু পূর্বে ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত।

আমিরুল তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত। এমনকি তারা ডিবি পুলিশের কিছু সদস্যকে নিয়মিত মাসোহারা দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির এসআই জনি এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, অভিযানটি সম্পূর্ণ আইনানুগভাবে পরিচালিত হয়েছে। যাদের বিষয়ে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তারা আমাদের সোর্স হিসেবে কাজ করেছে। তাদের সহায়তায় মূল আসামিদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে তথ্যদাতার সহায়তা নেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে কোনো অনিয়মের সম্পর্ক নেই।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজমল হুদা জানান, এসআই জনি ৬০ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়েছেন। পাঁচজনকে আটক করে দুইজনকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, দুইজন সোর্স ছিল এবং তারা নিরপরাধ হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না, তাই বিস্তারিত বলতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, টাকার বিনিময়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

তবে এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।