বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়ায় ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর ১২ টার দিকে থানা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে এবং থানা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা আহ্বায়ক সোলায়মান পারভেজ সভাপতিত্ব করেন।
এসময় বক্তারা বলেন, ঈদের আগে মজুরি-বোনাস প্রদানসহ দ্রব্যমূল্যের ঊদ্ধগতি রোধ ও রেশনিং চালুর দাবি, আসন্ন ঈদুল আযহার এক সপ্তাহ আগে মাসিক মজুরির সমপরিমান উৎসব বোনাস ও বকেয়া মজুরি প্রদান, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্দ্ধগতি রোধ, সর্বস্তরে রেশনিং চালু, বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে আইনী সুরক্ষা দিয়ে জাতীয় ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, শ্রমআইনের শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী ধারা বাতিল করে গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন, কুষ্টিয়াতে শ্রম আদালত স্থাপন, কু্ষ্িটয়া চিনিকল চালু ও মোহীনি মিল চালুসহ বিভিন্ন দাবিতে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের উদ্যোগে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসাবে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাবর আলী গেটস্থ জেলা কার্যলয় হতে মিছিল নিয়ে থানার মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক শ্রমিক নেতা আসাদুল হক আসাদ, হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন বি ২১২৬ এর জেলা সভাপতি রমজান বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ আলী, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের জেলা সদস্য ও চাতল শ্রমিক নেতা আতাহার আলী টনেল, হোটেল রেস্টুরেন্ট মিষ্টি বেকারি শ্রমিক ইউনিয়ন , মজমপুর শাখা সভাপতি জনি শেখ, সাধারণ সম্পাদক রবিন খাঁ, হোটেল শ্রমিক আছির উদ্দিন, জেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক মৃত্যুঞ্জয় পালের পরিচালনায় অনুষ্টিত সমাবেশে বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে জর্জরিত জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস উঠছে।
জ্বালানি তেল, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, গাড়িভাড়া তথা পরিবহণ ব্যয়সহ সকল ক্ষেত্রে মূল্য বৃদ্ধিতে মুদ্রাস্ফীতি-মূল্যস্ফীতির চাপে এই সময়ে বাচাঁর মত মজুরি না পেয়ে অর্ধাহার-অনাহার শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনগণের জীবন চলাই দায় হয়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রেই লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি ঘটলেও শ্রমিক-কৃষক-জনগণের মজুরি বা আয় বাড়েনি। এরকম সময়েও লোকাল গার্মেন্টস, ফার্নিচার, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পাদুকা, স’মিল, প্রেস, রাইস মিল, দোকান কর্মচারীসহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকদের প্রাপ্য ন্যায্য উৎসব বোনাস থেকে মালিকশ্রেণি বঞ্চিত করতে চায়। অথচ এই শ্রমিকরাই সারা বছর কাজ করে মালিক শ্রেণির মুনাফার পাহাড় গড়ে তুলেন।
শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে মজুরি-বোনাসের দাবিতে রাস্তায় নামলে মালিকশ্রেণির স্বার্থরক্ষাকারী স্বৈরাচারী সরকার শিল্প পুলিশ, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা লেলিয়ে দেয়। শ্রমিকরা তার জীবন সংগ্রাম থেকে প্রতিনিয়ত উপলব্ধি করছে সরকার বদলায় কোন ব্যবস্থার বদল হয় না, শ্রমিকেরও ভাগ্যের কোন পরিবর্তণ হয় না। বিগত ৫১ বছরে বাংলাদেশে নানা নামে, নানা রকম সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করলেও সকল সরকারই প্রভূ সাম্রাজ্যবাদের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি মালিকদের স্বার্থরক্ষা করে শ্রমিকদের উপর শোষণ নিপীড়ন চালানোয় সকলেই একাকার।
বক্তারা আরো বলেন গ্যাস-বিদ্যুত খাতে দুর্নীতি-অনিয়ম-লুটপাট বন্ধ করা হলে মূল্য বৃদ্ধি করতে হতো না। সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির সংস্থা আইএমএফ’র নির্দেশে সরকার গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করায় জাতীয় অর্থনীতি যেমন বিপর্যস্থ হচ্ছে, তেমনি সকল নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যের কারণে সংখ্যারগরিষ্ঠ মানুষের জীবনের সংকট বাড়ছে। একইসাথে তীব্র শোষণ ও লুটপাটের ফলে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্যও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বিদ্যমান বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ, আমলা দালাল পুঁজি বিরোধী শ্রমিক-কৃষক জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
সমাবেশ থেকে বক্তারা বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণভাবে জাতীয় ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, সেক্টর ভিত্তিক নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও বিভিন্ন সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরি বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন ও শ্রমবিধি প্রণয়ন, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা, ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রমআইন কার্যকর ও চাল,ডাল তেলসহ নিত্যপণ্যের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধি রোধ, স্বল্পমূল্যে স্বর্বাত্মক রেশনিং ব্যবস্থা চালুসহ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সাথে দাসত্বে এনডিএ ও বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, চট্রগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন নদী ও সমুদ্র বন্দ্রর ইজারা প্রদানের তৎপরতা বন্ধ এবং বাংলাদেশকে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।
