নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়াসহ খুলনা বিভাগের মধ্যে ক্যাডেট ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মাঝে সব থেকে জনপ্রিয় অদ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান ‘ঝিনাইদহ ক্যাডেট একাডেমী’। প্রতিষ্ঠানটি ক্যাডেট শিক্ষার্থীদের কোচিং ছাড়াও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে সুনামের সাথে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ড. জাহিদুজ্জামানের তত্বাবধানে এই প্রতিষ্ঠানটি সুনামের সাথে পরিচালিত হলেও নতুন করে একটি চক্র প্রায় একই রকম‘ ঝিনাইদহ ক্যাডেট কোচিং’ নাম ব্যবহার করে একটি ভুঁইফোড় ও ভুয়া প্রতিষ্ঠান চালু করে প্রতারনা করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যাক্তির বিরুদ্ধে। ঝিনাইদহ ক্যাডেট একাডেমির পাশের গলিতে কয়েকটি কক্ষ নিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়ে ওই ব্যাক্তিরা প্রতারনা করছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ ক্যাডেট একাডেমীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে কোচিং মালিকদের সংগঠনে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে পৌরসভার প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ ক্যাডেট একাডেমীর একজন পরিচালক বলেন, ঝিনাইদহ ক্যাডেট একাডেমী নামে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা হয়ে আসছে ২০১৮ সাল থেকে। প্রতি বছর ক্যাডেট ভর্তি পরীক্ষায় কুষ্টিয়া জেলায় তো বটেই খুলনা বিভাগের মধ্যে ভাল ফলাফল করে আসছে। নতুন করে কয়েকটি জেলায় একাডেমীর শাখা স্থাপন করা হয়েছে। তবে কুষ্টিয়া শহরে আমাদের একমাত্র শাখা আছে। সেখানে স্কুল কার্যক্রম চালু আছে। হঠাৎ করেই দি ওল্ড হাইস্কুলের তিনজন শিক্ষক আশরাফ, রনি ও মতিয়ার একটি ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান খুলেছে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কোচিং নামে। তারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের পাশেই একটি ভবনে কার্যক্রম চালু করায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবক বিভ্রান্ত হচ্ছে। আমরা প্রতিকার চেয়ে কোচিং মালিকদের সংগঠনের লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তারা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে। কোচিং মালিকদের সংগঠনের একজন নেতা বলেন, এ ধরনের কালচার খারাপ। শহরে অনেক প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান আছে। আশরাফ, রনি ও মতিয়ার যে কাজ করেছে সেটার বিহিদ না হলে যে কেউ এমন কাজ করবে। জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আগে-পিছে একটু পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠান খুলে বসলে তখন কারো কিছু করার থাকবে না। এটা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একজন অভিভাবক বলেন, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কোচিং নাম দিয়ে সবার সাথে প্রতারনা করছে। অনেকে না বুঝে সেখানে চলে যাচ্ছে।
পাশাপাশি এমন প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে বিভ্রান্ত করতে ও খারাপ উদ্দেশ্য নিয়ে। তারা অন্য নাম দিয়ে বড় প্রতিষ্ঠান খুলুক তাতে কেউ প্রতারনা ও বিভ্রান্ত হবে না। একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করতে এমন কাজ ঠিক না। যারা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তদন্ত কমিটির একজন সদস্য বলেন, আমরা সরেজমিন গিয়েছিলাম। যেটা করা হয়েছে সেটা ঠিক হয়নি। পাশাপাশি প্রায় একই নামে প্রতিষ্ঠান হলে সবাই বিভ্রান্ত হয়। তারা একদিন কোথায় ছিল? করোনার সময়ের পর থেকে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কোচিং নামের কোন প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ছিল না শহরে। একটি প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয়তা দেখে যে কেউ রাতারাতি একই নামে প্রতিষ্ঠান খুলে বসবে এটা হতে পারে না। এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সামনে এমন ঘটনা ঘটতে থাকবে। তখন অন্যরাও বিপদে পড়ে যাবে। কুষ্টিয়া কোচিং মালিকদের সংগঠনের সভাপতি ইমদাদুল হক জোয়ার্দ্দার বলেন, বিষয়টি আমি নিজেও সরেজমিন গিয়ে দেখেছি। একটি তদন্ত টিম করা হয়েছিল, তারাও প্রতিবেদন দিয়েছে। ফোরামে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টির যৌক্তিক সমাধান করার চেষ্টা চলছে।
