কুষ্টিয়ায় জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও লিফলেট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও লিফলেট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৪

রঞ্জউর রহমান ॥ গতকাল বুধবার (৯ অক্টোবর) জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে কুষ্টিয়ায় এক আলোচনা সভা ও লিফলেট ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট, উদয়, নিকুশিমাজ ও সাফ‘র আয়োজনে সাফ‘র নির্বাহী পরিচালক ও জেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য মীর আব্দুর রাজ্জাকের পরিচালনায় সাবেক প্রেস ক্লাব সভাপতি মুকুল খোসরুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শহর সমাজ সেবা অফিসার মোঃ আরিফুল ইসলাম, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন নিকুশিমাজের ইডি সালমা সুলতানা, উদয়ের ইডি আফরোজা খাতুন, দৈনিক প্রতিজ্ঞার প্রকাশক সম্পাদক নূরুন্নারহার সীমা, মনজুরুল হক, নিলুফা প্রমুখ।

“জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ব্যবসা থেকে সরকারের অংশীদারিত্ব প্রত্যাহার করা হোক” এই দাবিকে সামনে রেখে বক্তাগণ বলেন, স্বাস্থ্যই সম্পদ জনস্বাস্থ্যকে সুরক্ষা দিতে তামাকের চাষ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তামাক চাষ নিষিদ্ধ করতে হবে। উদ্বেগের বিষয় স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদনকারী একটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানিতে মাত্র ০.৬৪% শেয়ারের বিপরীতে বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ তিনজন কর্মকর্তা সরাসরি যুক্ত রয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদনকারী তামাক কোম্পানিতে সরকারের অংশীদারিত্ব তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অভিষ্ট লক্ষ্যের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।

বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের পর বহু বছর অতিবাহিত হলেও এ ধরনের ব্যবস্থা থাকায় তামাক নিয়ন্ত্রণে এখনও কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। তামাক কোম্পানিতে প্রতিনিধিত্ব থাকায় লাভবান হচ্ছে তামাক কোম্পানি এবং মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার ও জনগণ। ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ট্যোবাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে নরওয়ে, সুইডেন, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি শহর কর্তৃপক্ষ তামাক কোম্পানী থেকে শেয়ার প্রত্যাহার করেছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় তামাক ব্যবসা থেকে সরকারের অংশীদারিত্ব প্রত্যাহারের পাশাপাশি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। আলোচনা শেষে লিফলেট বিলি করা হয়।