মোশারফ হোসেন ॥ কুষ্টিয়া কুমারখালী চাপড়া ইউনিয়নে শানপুকুরিয়া গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে রিয়াজুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৩ জুলাই) সকাল ১১ টার সময় উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নে শানপুকুরিয়া গ্রামের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আরও তিনজনকে গুরুতর আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত রিয়াজুল শেখ শানপুকুরিয়া গ্রামের মইন উদ্দিন শেখর ছেলে। এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শানপুকুরিয়া গ্রামের হারুন শেখের গংদের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত আব্দুল লতিফ গংদের বিরোধ চলে আসছে।
এ বিরোধের জেরে শনিবার সকালে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হারুন এর আত্মীয়স্বজনসহ প্রায় শতাধিক লোকজন নিয়ে হামলা চালায় রিয়াজুল ও লতিফ, মজিদের ওপর। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয় রিয়াজুল । স্থানীয়রা রিয়াজুল কে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিয়াজুল কে মৃত ঘোষণা করেন।
এর পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে। ঘটনা স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জানা যায়, মৃত ইবাদত শেখের ছেলে হারুন শেখ ( ৫০) এর সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝামেলা চলে আসছিল। উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার সকাল ১১ টার সময় নিহতের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে হোসেন আলীর স্ত্রী মোছাঃ নাসিমা বেগম (৪৫) জমিতে থাকা গাছের কাঁঠাল পাড়তে গেলে, নিহতের বড় ভাই লতিফ কাঁঠাল পাড়তে নিষেধ করলে।
উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও মারামারি হয়। এই সময় হোসেন শেখের ছেলে মোঃ সুমন (২৫) নিহত রিয়াজুলের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হলে। স্থানীয় লোকজন রিয়াজুল কে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতরা হলেন, আব্দুল মজিদ শেখ , রফিক শেখ, রবিউল শেখ চিকিৎসাধীন কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কুমারখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকিবুল ইসলাম আকিব বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ তারেক জুবায়ের জানান, রিয়াজুল ইসলাম একজনের মৃত্যু হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে নাসিমা নামে এক গৃহবধূকে জিজ্ঞাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।
