কুষ্টিয়ায় ছয় প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল - কুষ্টিয়া জিলাইভ | truth alone triumphs

কুষ্টিয়ায় ছয় প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জানুয়ারি ৫, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রার্থীতা যাচাই-বাছই শেষে কুষ্টিয়া জেলায় চারটি সংসদীয় আসনের পাঁচ স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল এবং একজনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষনা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তারা। যার ফলে কুষ্টিয়ার ৪টি সংসদীয় আসনে ৬ জন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যদিও দুই প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপলি করবেন বলে খবরও পাওয়া গেছে। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার লক্ষ্যে কুষ্টিয়ার ৪টি সংসদীয় অসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন।

যাচাই-বাছই শেষে ৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কারণে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন-৭৫, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের ১৪টি ইউনিয়নের ১৩৫টিভোট কেন্দ্রের ৭৯৮ টি ভোট কক্ষে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত করেছে কুষ্টিয়া জেলা নির্বাচন অফিস।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে সর্বমোট ৪ লাখ ১৫৯ জন ভোটার রয়েছে। যার মধ্যে ২ লাখ ৯ শত ৯৩ জন পুরুষ, ১ লাখ ৯৯ হাজার ১ শত ৬৫ জন এবং ১ জন হিজরা ভোট রয়েছে। কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন। প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় পার্টি (জেপি)’র মো. শাহারিয়ার জামিল, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)’র মো. শাহাবুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)’র মো. গিয়াস উদ্দিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. বেলাল উদ্দীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মো. আমিনুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি)’র রেজা আহাম্মেদ বাচ্চু মোল্লা এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট’র মোহাঃ বদিরুজ্জামান। কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা এবং জেএসডির গিয়াস উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

সংসদীয় আসন-৭৬, কুষ্টিয়া-২ আসনটি মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনের ১৭০টি ভোট কেন্দ্রের ৯৩৩ টি ভোট কক্ষে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ৩১৩ জন। যার মধ্যে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৫৭ জন পুরুষ, ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫৩ জন মহিলা এবং ৩ জন হিজড়া ভোটার। এই আসনের মিরপুর উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের মোট ১১৪টি ভোট কেন্দ্রের ৫৭৪টি ভোট কক্ষে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৮ হাজার ১৫৭ জন। যার মধ্যে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩১৯ জন পুরুষ, ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩৭ জন মহিলা এবং ১ জন হিজরা ভোটার। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন।

প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি)’র রাগীব রউফ চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস’র মো. আরিফুজাম্মান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল আহসানুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মোহাম্মদ আলী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ’র মো. বাবুল আক্তার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র নূর উদ্দীন  আহমেদ, খেলাফত মজলিস’র মো. আব্দুল হামিদ এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র মো. আব্দুল গফুর। কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আল আহসানুল হকের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

সংসদীয় আসন-৭৭, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে সর্বমোট ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৩ জন ভোটার রয়েছে। যার মধ্যে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯ শত ৪৬ জন পুরুষ, ২ লাখ ১১ হাজার ১ শত ৩৩ জন এবং ৪ জন হিজরা ভোট রয়েছে। তথ্য মতে, পৌরসভার ৪৯টি ভোট কেন্দ্রের ৩১৫টি ভোট কক্ষে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৬২ হাজার ১ শত ৭৫ জন। যার মধ্যে ৭৭ হাজার ৭ শত ১২ জন পুরুষ, ৮৪ হাজার ৪ শত ৬২ জন মহিলা ভোটার এবং হিজরা ভোটার ১ জন।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন। প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র মো. আমির হামজা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র মোঃ আব্দুল্লাহ আখন্দ, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি)’র মোছাঃ রুমপা খাতুন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মীর নাজমুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস’র মোঃ সিরাজুল হক, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)’র মোহাঃ শরিফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি)’র মো. জাকির হোসেন সরকার। এই আসনে সকল প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

সংসদীয় আসন-৭৮, কুষ্টিয়া-২ আসনটি কুমারখালী ও খোকসা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনের দুইটি পৌরসভা ও ২০টি ইউনিয়নের ১৫২টি ভোট কেন্দ্রের ৮৪১ টি ভোট কক্ষে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৬৫ জন। যার মধ্যে ২ লাখ ১০ হাজার ৩৩৭ জন পুরুষ, ২ লাখ ৮ হাজার ৭২৩ জন মহিলা এবং ৫ জন হিজড়া ভোটার।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেন। প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)’র তরুন কুমার ঘোষ, বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি (বি.এস.পি)’র মো. খায়রুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি)’র সৈয়দ মেহেদী আহ্মেদ রুমী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র মো. আফজাল হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)’র মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, গণফোরাম’র মো. আব্দুল হাকিম মিঞা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র আনোয়ার খান, বাংলাদেশ লেবার পার্টি’র মো. শহিদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম আনছার এবং মো. শেখ সাদী।

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কুমারখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদি এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির খাইরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান, খাইরুল ইসলাম সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন বিধি অনুযায়ী অব্যহতি না থাকায় তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষিত হয়েছে, আর শেখ সাদীর ও আনসার প্রামানিকের মনোনয়নপত্রে ভুল থাকায় তা বাতিল করা হয়। বড় দলের মনোনিত কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। তবে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা ও আনসার প্রামাণিক আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।